৩৯ বছরে এসে ঘুচছে ক্যারিয়ারের একমাত্র আক্ষেপ; ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার মাঠে নামছেন মেসি!

ফুটবল বিশ্বের মহাতারকা লিওনেল মেসির পাওয়ার তালিকায় নতুন করে আর কী-ই বা যুক্ত হতে পারে! তাঁর ট্রফি ক্যাবিনেটে রয়েছে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা এবং রেকর্ড আটবার জেতা ব্যালন ডি’অরের মতো শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক। এমনকি বিশ্বজয়ের পথে ফুটবলের প্রায় সব পরাশক্তি—ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স কিংবা স্পেনের রক্ষণভাগকে তিনি একাই তছনছ করেছেন। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের এক অদ্ভুত সমীকরণে মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের একটি বড় পাতা এতদিন ফাঁকাই ছিল। সেই শূন্যস্থান পূর্ণ হতে চলেছে আগামীকাল আটলান্টার সেমিফাইনালে, যেখানে ৩৯ বছর বয়সে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড জাতীয় দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এলএমটেন।

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং নরওয়েকে বিদায় করে ইংল্যান্ড শেষ চারে ওঠার পরই নিশ্চিত হয়েছে এই ‘মহা-রণ’। মজার বিষয় হলো, ক্লাব ফুটবলে ইংলিশ দলগুলো মেসির কাছে রীতিমতো আতঙ্কের নাম। বার্সেলোনার জার্সিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনাল ও লিভারপুলের মতো জায়ান্টদের বিপক্ষে ৩৬ ম্যাচ খেলে তিনি ২৭টি গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন। বিশেষ করে ২০১০ সালে আর্সেনালের বিপক্ষে চার গোলের সেই অবিস্মরণীয় রাত আজও ফুটবল ভক্তদের স্মৃতিতে অমলিন। কিন্তু ক্লাব পর্যায়ে এমন অভাবনীয় সাফল্য থাকলেও জাতীয় দলের জার্সিতে ‘থ্রি লায়ন্স’দের বিপক্ষে খেলার সুযোগটি বারবার তাঁর হাতছাড়া হয়েছে।

এর পেছনে রয়েছে এক চরম নাটকীয় প্রেক্ষাপট। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালের নভেম্বরে। এর মাত্র তিন মাস আগে হাঙ্গেরির বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল কিশোর মেসির। কিন্তু অভিষেক ম্যাচেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই মর্যাদাবান ম্যাচে তাঁর আর নামা হয়নি। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২১ বছর, কিন্তু বড় কোনো টুর্নামেন্ট বা প্রীতি ম্যাচেও এই দুই পরাশক্তির আর দেখা হয়নি। ফলে মেসির ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটি এক অনন্য ‘মিসিং লিঙ্ক’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ মানেই ইতিহাসের এক গাঢ় ক্যানভাস। ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’, ১৯৯৮-এ ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড কিংবা ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের প্রতিশোধ—সব মিলিয়ে এই লড়াই সবসময়ই উত্তেজনার পারদ ছড়ায়। মেসি যখন ১৯৮৭ সালে জন্ম নেন, তার এক বছর আগেই লেখা হয়েছিল ৮৬-র সেই মহাকাব্য। ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, “সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের সব স্মৃতি আমার আছে কেবল ভিডিও আর ছবির মাধ্যমে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা অবশ্যই বিশেষ অনুভূতি, কারণ তারা বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি।”

চলমান বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সেও মেসির পারফরম্যান্স রীতিমতো বিস্ময়কর। এখন পর্যন্ত ৮টি গোল করে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং জর্ডান, কেপভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন তাঁর ক্ষুরধার প্রতিভা। সেমিফাইনালের এই ম্যাচে কেবল একটি জয়ই নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথমবার নিজের নাম লেখানোর রোমাঞ্চ নিয়ে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।