ফিফার সিদ্ধান্তে বিপাকে ফ্রান্স; কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ওলিসেকে নিয়ে দেশম শিবিরে বড় দুঃসংবাদ

বিশ্বকাপের মঞ্চে মরক্কোর বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালের ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধরনের আইনি ও মানসিক ধাক্কা খেল বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স। দলের অন্যতম প্রধান শক্তি মাইকেল ওলিসেকে দেখানো হলুদ কার্ডের বিরুদ্ধে করা ফ্রান্সের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এর ফলে কার্ডের খড়গ মাথায় নিয়েই শেষ আটের মহাযুদ্ধে মাঠে নামতে হচ্ছে এই ফরাসি তারকাকে। ফিফার এই অনড় অবস্থানের কারণে এখন চরম 'স্নায়ুচাপে' রয়েছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।

ঘটনাটি ঘটেছিল প্যারাগুয়ের বিপক্ষে রাউন্ড অব ১৬-এর একটি ম্যাচে। সেখানে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড় মাতিয়াস গালারজার সঙ্গে একটি তুচ্ছ বাকবিতণ্ডার জেরে ওলিসেকে হলুদ কার্ড দেখান মাঠের রেফারি। পরবর্তীতে 'ভিডিও রিপ্লে' পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে তেমন কোনো গুরুতর শারীরিক সংস্পর্শ ছিল না। এই তথ্যের ভিত্তিতেই ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন কার্ডটি বাতিলের জন্য ফিফার কাছে জোরালো 'আপিল' করেছিল। তবে বুধবার (৯ জুলাই) ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে সেই আবেদন নাকচ করে আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখার ঘোষণা দেয়। এর ফলে মরক্কোর বিপক্ষে ওলিসে যদি আবারও কোনো কার্ড দেখেন, তবে 'ট্যাকটিক্যাল' কারণে সম্ভাব্য সেমিফাইনালে তিনি নিষিদ্ধ হবেন।

দেশম শিবিরের দুশ্চিন্তা কেবল ওলিসেকে নিয়েই নয়; ব্র্যাডলি বারকোলা এবং মানু কোনোও বর্তমানে এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তবে এই অন্ধকারের মাঝেও কিছুটা আলোর ঝলকানি দেখিয়েছেন অরেলিয়েন শুয়ামেনি। চোট কাটিয়ে এই তারকা মিডফিল্ডার পুনরায় অনুশীলনে ফিরতে পারেন বলে সংবাদ সম্মেলনে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ দেশম। অন্যদিকে, মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এখন বেশি আলোচনা চলছে রেফারি নিয়োগ নিয়ে। মরক্কোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টাইন রেফারি ফাকুন্দো তেল্লোকে। আর্জেন্টিনার রেফারি নিয়ে ফরাসি গণমাধ্যমে গুঞ্জন থাকলেও দেশম অত্যন্ত শান্তভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রেফারিদের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তিনি কেবল নিজের দলের পরিকল্পনা নিয়েই ভাবছেন।

২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বজয়ের স্বাদ এনে দেওয়া কিংবদন্তি কোচ দিদিয়ের দেশম ইতিপূর্বেই ঘোষণা করেছেন যে, এই টুর্নামেন্ট শেষেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। ফলে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি তাঁর জন্য কেবল একটি কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, বরং এটি তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইও বটে। যদি কোনো কারণে ফ্রান্স এই ম্যাচে পরাজিত হয়, তবে সেটিই হবে ফরাসি ‘বসের’ ডাগআউটে শেষ উপস্থিতি। সব মিলিয়ে, কার্ডের বিতর্ক আর বিদায়ের করুণ সুরের মাঝে ফ্রান্স এখন এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।