উরুগুয়ের ডাগআউটে বড় চমক: বিয়েলসার বিদায়ে দায়িত্ব পেলেন সেই কিংবদন্তি!

চলমান বিশ্বকাপে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারায় উরুগুয়ের ফুটবলে বড় ধরনের রদবদল এসেছে। বিশ্বমঞ্চে দলটির হতাশাজনক বিদায়ের পর কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান অভিজ্ঞ রণকৌশলী মার্সেলো বিয়েলসা। এই শূন্যতা পূরণে উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশন (AUF) বেছে নিয়েছে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় ফুটবলার ডিয়েগো ফোরলানকে। ফুটবল বিশ্বের এক সময়ের ত্রাস ফোরলান এখন থেকে সেলেস্তেদের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন।

বিলেতের ‘স্মার্টফোন’ থেকে শুরু করে বিশ্বের সব স্পোর্টস নিউজ পোর্টালে এই খবরটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সাথে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী ফোরলান ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাবেন। তবে তাঁর এই দায়িত্ব কেবল জাতীয় দলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং উরুগুয়ের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে অনূর্ধ্ব-২০ দলের দেখভালের ভারও তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, ফোরলানকে ঘিরে উরুগুয়ে ফুটবলের আমূল পরিবর্তনের একটি বিশেষ ‘বাজেট’ ও পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটির নীতিনির্ধারকরা।

ডিয়েগো ফোরলানের কোচিং ক্যারিয়ার খুব একটা দীর্ঘ না হলেও শুরুটা ছিল বেশ প্রতিশ্রুতিশীল। ২০২০ সালে উরুগুয়ের শীর্ষ লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব পেনারোলের মাধ্যমে তাঁর ডাগআউটে পথচলা শুরু হয়। এরপর ২০২১ সালে তিনি কাজ করেছেন ক্লাব এতেনাসের সাথে। যদিও কোচ হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা সীমিত, কিন্তু তাঁর বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ি জীবনই ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খেলোয়াড় হিসেবে ফোরলান ছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য নাম। ২০০২ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর তিনি নীল জার্সি গায়ে ১১২টি ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছেন ৩৬ বার। তাঁর ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠতম সময় ছিল ২০১০ বিশ্বকাপ, যেখানে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৫ গোল করার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ‘গোল্ডেন বল’ জিতেছিলেন তিনি। ২০১১ সালে উরুগুয়েকে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতাতেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানের মতো ইউরোপীয় জায়ান্টদের হয়ে দাপিয়ে বেড়ানো এই কিংবদন্তি এখন ডাগআউটে কতটা সফল হন, সেটিই দেখার বিষয়। উরুগুয়ের ফুটবলে ফোরলানকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে এক নতুন স্বপ্নের শুরু হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।