‘মিশরকে ছিনতাই করা হয়েছে’: আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়ে এবার মুখ খুললেন নিউইয়র্কের মেয়র

আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র লড়াইয়ে মাঠের রেফারিং নিয়ে চলা বিতর্কের রেশ এবার পৌঁছে গেছে সুদূর আটলান্টিক মহাসাগরের ওপারে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও। নাটকীয় এক ম্যাচে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে মিশরের হারের পর যখন বিশ্বজুড়ে ‘ভিএআর’ (VAR) ও রেফারির প্রটোকল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন সেই আগুনে ঘি ঢাললেন খোদ নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন যে, ওই ম্যাচে মিশরের সাথে আক্ষরিক অর্থেই ‘ডাকাতি’ করা হয়েছে। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ওই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর-এর মাধ্যমে বাতিল হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে আফ্রিকার দেশটি। মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে এই অন্যায্য ম্যাচ পরিচালনার বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েছে। ঠিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার (৯ জুলাই) নিউইয়র্কে এক প্রশাসনিক জনসভায় অংশ নিয়ে মেয়র মামদানি ফুটবল মাঠের এই অবিচার নিয়ে তাঁর নিজস্ব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

মূলত ‘নেক্সট স্টপ: বেটার বাসেস, ফাস্টার সার্ভিস’ নামক একটি আধুনিক বাসসেবা কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এই প্রসংগটি টেনে আনেন। নাগরিকদের সময় সাশ্রয় ও নতুন দ্রুতগতির বাস সার্ভিসের সুফল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এক ভিন্নধর্মী রসিকতার আশ্রয় নেন। মামদানি বলেন, “এই উন্নত বাস সার্ভিসের ফলে আগামী ছয় মাসে আপনাদের অন্তত ২৪ ঘণ্টা সময় বাঁচবে। সেই অতিরিক্ত সময়ে আপনারা পরিবারের সাথে সুন্দর মুহূর্ত কাটাতে পারবেন কিংবা সন্তানের খেলার মাঠে উপস্থিত থাকতে পারবেন। আর সবচেয়ে বড় কথা, বন্ধুদের সাথে বসে একমত হতে পারবেন যে—গতকালের ম্যাচে মিশরকে আসলে ছিনতাই করা হয়েছে।”

মেয়র মামদানির এই মন্তব্য কেবল হাস্যরসের খোরাক নয়, বরং এটি বিশ্বমঞ্চে ফুটবলের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে থাকা উদ্বেগেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই সময় সাশ্রয়ই নিউইয়র্কবাসীর কাছে তাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ফিরিয়ে দেবে। তবে বাসের কর্মসূচিতে গিয়ে কেন তিনি ফুটবলের বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে কথা বললেন, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রভাবের বিপরীতে ছোট দলগুলোর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করতেই তিনি এমন ‘কড়া’ শব্দ ব্যবহার করেছেন।

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের সেই বিতর্কিত হার এখন আর কেবল মাঠের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন ‘স্মার্টফোন’ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এক বৈশ্বিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। মিশরের কোচ ও খেলোয়াড়রা আগেই রেফারিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে আক্রমণ করেছিলেন, আর এখন পশ্চিমা বিশ্বের একজন শীর্ষ রাজনীতিবিদের এমন সায় সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করল। ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে পরবর্তী ‘ক্যাবিনেট’ বা ফিফার সিদ্ধান্তের দিকে, যেখানে নির্ধারণ হবে এই বিতর্কের চূড়ান্ত পরিণতি।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।