পাঁচ রেফারিই আর্জেন্টাইন! মরক্কো যুদ্ধের আগে দেশমের মুখে কেন বিতর্কিত লেতেক্সিয়ের গুণগান?

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হওয়ার আগে ফ্রান্স শিবিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মাঠের ফুটবল নয়, বরং রেফারি। আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার শেষ ১৬-র ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও ভিএআর (VAR) অফিশিয়ালদের ভূমিকা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখন এক বিপরীতমুখী অবস্থান নিলেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। বিতর্কিত সেই রেফারিং নিয়ে দেশম কোনো অভিযোগ তো তোলেনইনি, বরং নিজের পরবর্তী ম্যাচেও একই মানের রেফারিং প্রত্যাশা করছেন তিনি।

আজ বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মরক্কোর মুখোমুখি হবে বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে দেশম বলেন, ‘আমি আশা করি, আমাদের ম্যাচেও রেফারি মঁসিয়ে লেতেক্সিয়ের মতোই দক্ষ ও দৃঢ় হবেন।’ দেশমের এমন মন্তব্য অনেককেই চমকে দিয়েছে, কারণ মিসরীয় ফুটবল প্রেমীরা লেতেক্সিয়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাঁকে ‘লজ্জিত’ করার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে ফরাসি কোচের মতে, লেতেক্সিয়ে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে সেই স্নায়ুচাপের ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচের রেফারি প্যানেল নিয়েও এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই ম্যাচের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচজন অফিশিয়ালের সবাই আর্জেন্টিনার নাগরিক। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই অম্লমধুর স্মৃতির পর থেকে ফুটবলের মাঠে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যে এক ধরনের অদৃশ্য ‘শত্রুতা’ বা দ্বৈরথ বিদ্যমান। এমন অবস্থায় ফ্রান্সের ম্যাচে আর্জেন্টিনার পাঁচজন রেফারি নিয়োগ দেওয়াকে অনেকেই ভালো চোখে দেখছেন না। মূল রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফাকুন্দো টেলো, যিনি ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে বাঁশি বাজিয়েছিলেন।

টেলোর সহকারী হিসেবে থাকবেন তাঁরই স্বদেশি জুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চাড। চতুর্থ রেফারি হিসেবে দারিও হেরেরা এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে ক্রিস্টিয়ান নাভারোকে রাখা হয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলো এই ‘পিওর’ আর্জেন্টাইন প্যানেল নিয়ে সজাগ থাকলেও দেশম মাঠের বাইরে তর্কে জড়াতে নারাজ। তিনি সরাসরি বলেন, ‘আমি রেফারিদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি। আমাদের লড়াইটা মাঠের প্রতিপক্ষ মরক্কোর বিরুদ্ধে, কোনো রেফারির বিরুদ্ধে নয়।’

ফ্রান্সের গোলরক্ষক রবিন রিসারও কোচের সুরেই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, গত ফাইনাল হারের তিক্ততা থাকলেও তা রেফারিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলা উচিত নয়। রিসার যোগ করেন, ‘যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই একজন রেফারি এত বড় মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পান। আমাদের মনোযোগ কেবল জয়ের দিকে।’ বিশ্বকাপের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে রেফারি ইস্যু যেন ফুটবলীয় কৌশলের সমান্তরালে এক মানসিক যুদ্ধ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা ম্যাচের উত্তেজনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।