ফিফার নিয়ম কি কেবল কাগজে-কলমে? মিশরের গোল বাতিল নিয়ে বোমা ফাটালেন কাতার বিশ্বকাপের সেই রেফারি!

আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার রোমাঞ্চকর নকআউট ম্যাচটি শেষ হলেও এর রেশ যেন কাটছেই না। মাঠের বিতর্কিত রেফারিং এবং মিশরের একটি নিশ্চিত গোল বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে যে ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এবার যোগ হলো এক নতুন মাত্রা। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনাকারী দলের অন্যতম সদস্য এবং মেক্সিকান অভিজ্ঞ রেফারি ফার্নান্দো গুয়েরেরো দাবি করেছেন, মিশরের গোলটি বাতিল করার ক্ষেত্রে ‘ফিফা’র নিজস্ব ‘ভিএআর প্রটোকল’ চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য ফুটবল মহলে নতুন করে ‘পক্ষপাতিত্বের’ বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে যখন মিশর ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পথে ছিল, ঠিক তখনই ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার ভিএআর-এর সহায়তা নিয়ে একটি গোল বাতিল করেন। সেই সিদ্ধান্তই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জয়ী হয়। বিষয়টি নিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ বিশ্লেষণ পোস্ট করেছেন গুয়েরেরো। তিনি অত্যন্ত পেশাদার ভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করেছেন যে, কেন এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। গুয়েরেরোর মতে, প্রথমত আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়ের ওপর কোনো ‘ফাউল’ সংঘটিত হয়নি। দ্বিতীয়ত, যদি তর্কের খাতিরে একে ফাউল ধরাও হয়, তবুও ভিএআর-এর ‘অ্যাটাকিং পজিশন ফেজ’ (APP) প্রটোকল অনুযায়ী এর পুনর্মূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ ছিল না।

কারিগরি ব্যাখ্যায় এই অভিজ্ঞ অফিশিয়াল আরও জানান, গোলের আগে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল এবং বলটি কেড়ে নেওয়ার জন্য তারা পর্যাপ্ত জায়গা ও সময় পেয়েছিল। এমনকি মিশর গোল করার আগে আর্জেন্টিনা দল বলটি উদ্ধার করার জন্য টানা তিনবার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু তারা সফল হয়নি। ফিফার স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভিএআর কেবল তখনই ‘হস্তক্ষেপ’ করতে পারে যখন একটি সুনির্দিষ্ট আক্রমণাত্মক মুভ তৈরি হয় এবং ডিফেন্ডিং দলের বল ফিরে পাওয়ার আর কোনো বাস্তবসম্মত সুযোগ থাকে না। ফলে লেটেক্সিয়ারের এই সিদ্ধান্তটি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য, ফার্নান্দো গুয়েরেরো কোনো সাধারণ ফুটবল ব্যক্তিত্ব নন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেই রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে, যেখানে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বজয় করেছিল, সেই ম্যাচে তিনি ‘সাপোর্ট ভিএআর’ হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই টুর্নামেন্টে তিনি বেলজিয়াম-মরক্কো এবং জাপান-স্পেনের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোতেও মূল ভিএআর দায়িত্বে ছিলেন। ফলে তাঁর এমন বিশ্লেষণকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

এদিকে, এই বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে মিশরের ম্যানেজার হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে এক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এই বিশ্বকাপ আসলে একটি বিশাল ‘মার্কেটিং’ বা বাণিজ্যিক প্রকল্প। তারা কেবল চেয়েছিল লিওনেল মেসি যেন টুর্নামেন্টে যত দিন সম্ভব টিকে থাকেন।” অন্যদিকে, ম্যাচের গোলদাতা মোস্তফা জিকো মিক্সড জোনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে বলেন, “এটি মোটেও ন্যায্য ফুটবল নয়। আমি আর্জেন্টিনাকে আগাম অভিনন্দন জানাচ্ছি, কারণ সম্ভবত ওরাই বিশ্বকাপ জিতবে—সবকিছু তো আগে থেকেই ঠিক করা!” প্রযুক্তির যুগে যেখানে স্বচ্ছতা আসার কথা ছিল, সেখানে এমন ‘প্রটোকল’ লঙ্ঘনের অভিযোগ ফুটবল বিশ্বের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।