বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে মিসর। তবে এই হারকে কেবল একটি সাধারণ ফুটবলীয় পরাজয় হিসেবে মেনে নিতে নারাজ মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। তাদের দাবি, আটলান্টার সেই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ম্যাচ পরিচালনা ছিল স্পষ্টতই অন্যায্য এবং পক্ষপাতদুষ্ট। বুধবার (৮ জুলাই) ইএফএ-র পক্ষ থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাতীয় দলের স্বার্থ রক্ষায় এই অবিচারের বিরুদ্ধে তারা কোনোভাবেই ‘চুপ থাকবে না’।
আটলান্টার সেই স্নায়ুচাপের ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে দাপুটে অবস্থানে ছিল আফ্রিকার সিংহরা। কিন্তু এরপর মাত্র ১৪ মিনিটের অবিশ্বাস্য ঝড়ে ৩ গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে রেফারির বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তুলেছে মিসর। বিশেষ করে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে মিসরের একটি নিশ্চিত গোল বাতিল করার সিদ্ধান্তটিই এখন ‘টক অব দ্য টাউন’। ভিএআর রিভিউতে দাবি করা হয়, গোলের আগে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন মিসরীয় মিডফিল্ডার মারওয়ান আত্তিয়া। তবে ইএফএ-র দাবি, রেফারি ভিএআর প্রযুক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এর খেসারত হিসেবেই দেশটিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।
ইএফএ তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে, “মিসর জাতীয় দলের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা এমন কোনো বিষয় নয়, যাকে উপেক্ষা করা যায় কিংবা কম গুরুত্ব দেওয়া চলে। এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব, যা আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসের সঙ্গে বহন করছি। মাঠের কিছু গুরুতর সিদ্ধান্ত আমাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে।”
ম্যাচে ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলের পর ৬৭ মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোলে জয় যখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং ৮৩ মিনিটে লিওনেল মেসির গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর যোগ করা সময়ে (৯০+২) এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিসরীয় কোচ হোসাম হাসান। তিনি দুই হাত আড়াআড়ি করে ‘এক্স’ চিহ্ন দেখিয়ে রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেন। ম্যাচ শেষে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য ছিল, “হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক; হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি যেন প্রতিযোগিতায় থাকে।”
মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আরও জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। ফুটবলের এই সর্বোচ্চ আসরে ম্যাচ পরিচালনায় সততা, নিয়মানুবর্তিতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য। মিসরের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং বিশ্বজুড়ে থাকা সমর্থকদের হতাশা প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মাঠের প্রতিটি খেলোয়াড় ন্যায্য বিচার এবং ফিফার নিয়মের সমান প্রয়োগ পাওয়ার অধিকার রাখেন।” ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চে এই ধরনের বিতর্কিত রেফারিং আধুনিক ফুটবলের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।