দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ‘প্রক্টর’ পদ থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছেন অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ। আজ রোববার (১০ মে) তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আবেদনপত্রটি জমা দেওয়ার মুহূর্ত থেকেই তার এই পদত্যাগ কার্যকর বলে গণ্য হবে।
পদত্যাগপত্রে অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ তার দায়িত্ব পালনের সময়কাল এবং অর্জিত অভিজ্ঞতা নিয়ে আবেগঘন কিন্তু পেশাদার বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ২০ মাস ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের বিষয় ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে প্রক্টরিয়াল বডির অভিভাবক হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
অব্যাহতির কারণ হিসেবে অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ সম্পূর্ণভাবে ‘ব্যক্তিগত কারণ’কে উল্লেখ করেছেন। তবে প্রক্টর পদের প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়লেও শিক্ষক হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রাণকেন্দ্র ‘একাডেমিক’ কার্যক্রমে আগের মতোই নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া, নতুন প্রক্টর নিয়োগের পর দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি যাতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে তিনি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
নিজের বিদায়ী বার্তায় তিনি সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, তার প্রিয় সহকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অ্যালামনাই’ এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের প্রতি বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে তার দায়িত্ব পালনকালে উপাচার্যের সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতার কথা তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন। অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরাসরি শিক্ষকতা ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সমৃদ্ধিতে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।