১. পুলিশে আসছে বড় পরিবর্তন: ওভারটাইম ভাতা ও অবসরে সম্মানসূচক পদোন্নতির ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

 বাংলাদেশ পুলিশকে একটি আধুনিক, জনবান্ধব এবং জনকল্যাণমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ও যৌক্তিক দাবিগুলো ধাপে ধাপে পূরণের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে এসব দাবি পূরণে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান তিনি।


আজ রোববার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভা’য় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরও অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।


সভার প্রধান আকর্ষণ ছিল পুলিশ সদস্যদের অতিরিক্ত কাজের মূল্যায়ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশিং কার্যক্রমকে আরো বেশি গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের জন্য একটি বিশেষ নীতিমালার আওতায় ‘ওভারটাইম’ ভাতা চালুর চিন্তা করছে সরকার। এই পদক্ষেপ পুলিশের মনোবল বৃদ্ধি এবং সেবার গুণগত মান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ইন্সপেক্টর থেকে শুরু করে কনস্টেবল পদ পর্যন্ত সদস্যদের এই ভাতার আওতায় আনার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।


বাহিনীর ভেতরে পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা ও দীর্ঘদিনের অসন্তোষ দূর করতে মন্ত্রী একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক কনস্টেবল ৪০ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে চাকরি করার পর কোনো পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে চলে যান। এই বঞ্চনা দূর করতে বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড সাপেক্ষে অবসরকালীন সময়ে কনস্টেবল থেকে অনারারি এএসআই, এএসআই থেকে অনারারি এসআই এবং এসআই থেকে অনারারি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।


পুলিশের স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন সংকটের বিষয়েও মন্ত্রী আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মানসিক চাপের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলোকে আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী দিয়ে সজ্জিত করা হবে। এছাড়া বাহিনীর সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে জমি অধিগ্রহণ ও নতুন কার্যালয় নির্মাণ সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিগত দুই মাসে দেশের স্থিতিশীলতা দৃশ্যমানভাবে উন্নত হয়েছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধের ধরণ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তোলার ওপর তিনি জোর দেন। বিশেষ করে সাইবার ক্রাইম, অনলাইন জুয়া এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের সুপারিশের ভিত্তিতে দ্রুত নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।


সবশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির মতো বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করতে বিদ্যমান আইন সংশোধনের ঘোষণা দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, পুলিশকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে হবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো আপস করা হবে না।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।