প্রকৃতিতে বর্ষার আগাম পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে, গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর আকাশ ভেঙে বৃষ্টিও ঝরেছে বেশ কয়েকবার। নাগরিক জীবনে এক চিলতে স্বস্তি এলেও ঢাকার বাতাস থেকে বিষবাষ্প যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। ধুলোবালি কিছুটা থিতিয়ে পড়লেও কার্বন ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানের আধিক্যে রাজধানীর বাতাস এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’ (IQAir)-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যানে ঢাকার বায়ুমণ্ডলের এই ভয়াবহ চিত্র পুনরায় ফুটে উঠেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে প্রকাশিত বৈশ্বিক বায়ুমান সূচকে দেখা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় আবারও এক নম্বরে উঠে এসেছে ঢাকা। এদিন সকালে রাজধানীর ‘এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ (AQI) স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৮১। বায়ুমান বিজ্ঞানের সংজ্ঞায় এই মাত্রাটি ‘অস্বাস্থ্যকর’ (Unhealthy) হিসেবে বিবেচিত হয়। বৃষ্টির ফলে সাধারণ মানুষ মনে করেছিলেন বাতাসের মান উন্নত হবে, কিন্তু আইকিউএয়ারের ‘লাইভ’ ডেটা বলছে ভিন্ন কথা—পরিবেশের এই অদৃশ্য ঘাতক এখনো সক্রিয়।
তালিকায় ঢাকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতা, যার বায়ুমান স্কোর ১৩৫। এ ছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল অবস্থান করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং অপরিকল্পিত নগরায়নই এই ক্রমাগত বায়ুদূষণের মূল কারণ বলে মনে করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। যদিও বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে রাস্তার ধুলো কমেছে, কিন্তু কলকারখানা ও যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাগুলো (PM2.5) এখনো বায়ুমণ্ডলে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।
বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর ‘ভালো’ ধরা হলেও ঢাকার বর্তমান ১৮১ স্কোর নির্দেশ করে যে, সাধারণ মানুষের শ্বাসযন্ত্রের জন্য এটি বড় ধরনের ঝুঁকি। আইকিউএয়ারের পক্ষ থেকে আজ নগরবাসীকে বিশেষ ‘সতর্কবার্তা’ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করা, জানালা বন্ধ রাখা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণজনিত নানা জটিলতায় প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান। ঢাকার মতো জনবহুল মেগাসিটিতে এই দীর্ঘস্থায়ী দূষণ হৃদরোগ, অ্যাজমা এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বৃষ্টির এই ‘ফলস সেন্স অফ সিকিউরিটি’ বা মিথ্যে স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকা দূষণ রোধে এখনই স্থায়ী ও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনস্বাস্থ্য এক চরম সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।