দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য ও কল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, খুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাটের তৈরি ব্যাগ, স্কুল ইউনিফর্ম ও উন্নতমানের জুতা (ফুটওয়্যার) বিতরণের একটি সুদূরপ্রসারী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে কোমলমতি শিশুদের স্কুলগমন যেমন আনন্দদায়ক হবে, তেমনি ঝরে পড়ার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে জোরদার প্রস্তুতি শুরু করেছে। গতকাল মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার প্রাথমিকভাবে একটি ‘পাইলট’ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। এই বিশেষ কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের প্রতিটি উপজেলার দুটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর মাঝে মানসম্মত জুতা বিতরণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথম পর্যায়েই প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী সরকারের এই সরাসরি সহায়তার আওতায় আসবে। পুরো প্রকল্পটি ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই প্রকল্পে অর্থায়নের আশ্বাস দিয়েছে।
শিশুদের মানসিক বিকাশের কথা মাথায় রেখে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা চাই এই উদ্যোগটি কেবল একটি সাধারণ বিতরণ কর্মসূচি না হয়ে শিশুদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সমন্বিত সহায়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।’ তিনি জুতার ডিজাইন, স্টাইল ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মান বজায় রাখার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যদি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জুতার গুণগত মানে বৈষম্য থাকে, তবে তা শিশুদের মনে হীনম্মন্যতা তৈরি করতে পারে। তাই সবার জন্য একই মানের পণ্য নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
এই কর্মসূচির টেকনিক্যাল ও কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড (মানদণ্ড) বজায় রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছাড়াও লেদার ইনস্টিটিউট, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ এবং সহযোগী কোম্পানিগুলোর দক্ষ প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কমিটির মূল দায়িত্ব হবে জুতার আকর্ষণীয় ডিজাইন চূড়ান্ত করা, কোয়ালিটি চেকিং এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করা। অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপটি প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রাপ্তিতে বৈষম্য দূর করবে এবং তাদের মাঝে শিক্ষার প্রতি বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।