ক্রমবর্ধমান মেগাসিটি ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক সেবাকে আরও গতিশীল করতে একগুচ্ছ নতুন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার আজ সকালে খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনকালে জানান, রাজধানীর বর্তমান বাস্তবতায় ভাটারা, বাড্ডা এবং খিলক্ষেত থানার অংশ বিশেষ নিয়ে ‘বসুন্ধরা’ নামে একটি স্বতন্ত্র ও আধুনিক থানা স্থাপনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর পশ্চিমাংশের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী রায়ের বাজারেও একটি নতুন থানা হতে যাচ্ছে, যার প্রস্তাবনা বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার তাঁর বক্তব্যে ঢাকার অন্যান্য প্রান্তের পরিবর্তনের রূপরেখাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের খিলগাঁও থানাকে ভেঙে নতুন একটি প্রশাসনিক ইউনিট করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে মোহাম্মদপুর, আদাবর এবং হাজারীবাগের জনবহুল কিছু এলাকাকে সমন্বিত করে আরও একটি নতুন থানা গঠনের কাজ চলছে। থানার পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে নতুন নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের কার্যক্রমও সমানতালে এগিয়ে চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। ডিএমপির এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে আইজিপি বলেন, অপরাধ দমন এবং দ্রুত রেসপন্স নিশ্চিত করতে জনবলের পাশাপাশি ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ঢাকার নতুন উপশহর পূর্বাচল নিয়ে তাঁদের পরিকল্পনার কথা। তিনি জানান, পূর্বাচল এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দাপ্তরিক আদেশ পাওয়া মাত্রই সেখানে পুরোদমে পুলিশিং শুরু হবে। পূর্বাচল প্রকল্পের বিশালতা বিবেচনায় সেখানে ইতিমধ্যেই চারটি থানা এবং ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এই নতুন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করতে একটি পৃথক ট্রাফিক ডিভিশন, এমটিও ওয়ার্কশপ এবং পুলিশ লাইনস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য অন্তত ৬ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের চাহিদা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে তথ্য দিতে গিয়ে মো. সরওয়ার আরও জানান, গত কয়েক মাসে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ডিএমপিতে প্রায় ৮ হাজার নতুন আবাসন বা একমোডেশন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে যাতে মাঠপর্যায়ের সদস্যরা নিশ্চিন্তে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। রাজধানীর এই নতুন প্রশাসনিক বিন্যাস কার্যকর হলে ঢাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সেবা প্রদান পদ্ধতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।