বিগত ২০ বছরে পুরো একটি প্রজন্ম ধ্বংস করা হয়েছে: বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী

দেশের সামাজিক অবক্ষয় ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তাঁর মতে, বিগত ২০ বছরে যারা ক্ষমতার দাপটে সন্ত্রাস ও অপরাধকে প্রশ্রয় দিয়েছে, তারা কেবল সমাজকে কলুষিতই করেনি বরং একটি সম্পূর্ণ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় নরসিংদী সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল করিমপুর কেরামত কামাল বয়েজ হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সমাজের অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান অপরাধপ্রবণতার মূল কারণ ব্যবচ্ছেদ করেন। তিনি বলেন, “গত দুই দশকে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসবাদ ও মাদককে লালন করা হয়েছে, যার বিষময় ফল আজ আমরা সমাজজুড়ে দেখছি। একটি জেনারেশন বা প্রজন্মকে নৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার কারণেই আজ মাদক ও সহিংসতার হার এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে।” তবে এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য বর্তমান সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

অপরাধ দমনে নিজের জিরো টলারেন্স বা ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা জানিয়ে বিএমইউ উপাচার্য স্পষ্ট হুশিয়ারি প্রদান করেন। তিনি বলেন, “অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না; হোক সে বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ধারী। অপরাধীর কোনো দল নেই, তাঁর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।” চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বপ্ন তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “আমরা এই জনপদকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত গভীর রাতেও নির্ভয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করতে পারবে।”

মাদকবিরোধী অভিযানে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. এফ এম সিদ্দিকী এক অভাবনীয় নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন, “এলাকার কোথায় মাদকের আস্তানা বা ঘাঁটি আছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত পুলিশকে জানান। আমরা আপনাদের ঢাল হয়ে পাশে আছি। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে যদি কেউ অন্যায় বা জুলুম করতে আসে, তবে সাহস নিয়ে তাঁর টুঁটি চেপে ধরে পুলিশে সোপর্দ করবেন।”

করিমপুর পাবলিক ইনস্টিটিউটের সভাপতি ফরহাদ হোসেন মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন। এ ছাড়া বাংলাদেশ আইন সমিতির সভাপতি এ কে এম আফজাল উল মুনীর, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। বক্তারা প্রত্যেকেই চরাঞ্চলকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করে একটি বাসযোগ্য নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।