সয়াবিন তেলের সংকট ও ডিলারদের কারসাজি: সরেজমিনে তদন্তে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

রাজধানীসহ সারাদেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও বিপণন নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের মধ্যে এবার সরাসরি মাঠে নামলেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। সয়াবিন তেলের সরবারাহ পরিস্থিতি ও বাজারদর সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর দুটি বড় কাঁচাবাজারে ঝটিকা সফর করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সন্ধ্যায় মন্ত্রী প্রথমে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এবং পরবর্তীতে শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বাজারের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের পাশাপাশি পণ্য কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গেও দীর্ঘ সময় কথা বলেন। পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।

বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এক অস্বস্তিকর চিত্র উঠে আসে। খুচরা বিক্রেতারা বাণিজ্যমন্ত্রীকে জানান, তেলের সরবরাহ বর্তমানে চাহিদার তুলনায় অনেক কম। বিশেষ করে বাজারে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেলের দামও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি ছিল বড় কোম্পানিগুলোর ডিলারদের নিয়ে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, বিভিন্ন তেল কোম্পানির ডিলাররা তেলের সঙ্গে অন্য পণ্য কিনতে বিক্রেতাদের এক প্রকার বাধ্য করছেন, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অস্থিরতা তৈরি করছে।

অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতারা মন্ত্রীর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাজারে বোতলজাত তেল পাওয়া এখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তেলের বোতল সংকটে থাকলেও গায়ে লেখা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম এখনো নেওয়া হচ্ছে না। বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, হাতেগোনা দুই-একটি ব্র্যান্ডের সরবরাহ কম থাকলেও অধিকাংশ বড় ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেল বাজারে আসার প্রক্রিয়া প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। এমনকি এই সংকটের সুযোগে কিছু নতুন ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেলও দোকানে দেখা গেছে।

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরবরাহের ক্ষেত্রে যে সামান্য ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি হুশিয়ারি দেন যে, কোনো পক্ষ যদি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করে বা বাজার অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুব শীঘ্রই তেলের বাজার স্থিতিশীল হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া