এশীয় কফি বাজারে শুরু হয়েছে এক নাটকীয় পরিবর্তন। ভিয়েতনামের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বিশ্বখ্যাত রোবাস্তা কফির আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন বিকল্প হিসেবে ব্যাপকভাবে ইন্দোনেশিয়ার দিকে ঝুঁকছেন। মূলত ভিয়েতনামের চাষীরা বাড়তি মুনাফার আশায় কফি বিন মজুদ করে রাখায় বাজারে এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ভিয়েতনামের কফি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ‘সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডস’-এ বর্তমানে প্রতি কেজি কফি বিন ৩ ডলার ২৯ সেন্ট থেকে ৩ ডলার ৩৬ সেন্টে (স্থানীয় মুদ্রায় ৮৬ হাজার ৫০০ থেকে ৮৮ হাজার ৩০০ ডং) লেনদেন হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক বাজারে কফির দাম আরও বাড়ার আশায় চাষীরা তাদের উৎপাদিত পণ্য এখনই বাজারে ছাড়ছেন না। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে বড় বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো এখন ভিয়েতনামি রোবাস্তার পরিবর্তে ইন্দোনেশিয়ার ‘সুমাত্রা রোবাস্তা’ কফি সংগ্রহের দিকে মনোযোগী হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় এখন কফি সংগ্রহের ভরা মৌসুম চলায় সেখানকার বাণিজ্যিক কার্যক্রম অত্যন্ত চাঙ্গা অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়াগত প্রতিকূলতাও ভিয়েতনামের কফি উৎপাদনের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রধান কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। যদিও কফি গাছের এখন পর্যন্ত বড় কোনো স্থায়ী ক্ষতি হয়নি, তবে দীর্ঘমেয়াদি অনাবৃষ্টির আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির এক বৈচিত্র্যময় চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত মার্চ মাসে সুমাত্রা রোবাস্তা কফির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে রফতানির পরিমাণ কমলেও বিশ্ববাজারে ইন্দোনেশিয়ান কফির চাহিদা ও দাম-উভয়ই এখন আকাশচুম্বী। ব্যবসায়ীরা বর্তমানে সুমাত্রা রোবাস্তা কফির প্রিমিয়ামের জন্য টনপ্রতি ১০০ থেকে ১৩০ ডলার পর্যন্ত বাড়তি দাম দাবি করছেন। আন্তর্জাতিক ফিউচার্স মার্কেটে আগামী জুলাই মাসে সরবরাহের জন্য রোবাস্তা কফির দাম টনপ্রতি ৩৫ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৩ হাজার ৪১৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ভিয়েতনামের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে দেশটি প্রায় ৮ লাখ ১০ হাজার টন কফি রফতানি করেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানির পরিমাণের দিক থেকে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি হলেও সার্বিক আয় কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। এই চার মাসে কফি রফতানি খাত থেকে ভিয়েতনামের মোট আয় হয়েছে ৩৬৯ কোটি ডলার। বাজারের এই অস্থিতিশীলতা ও সরবরাহ সংকটের কারণে বৈশ্বিক কফি চেইনগুলো তাদের সোর্সিং কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।