বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ব্যবহারকারী ও উৎপাদনকারী দেশ চীনে কয়লা উত্তোলনের চিত্রে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এপ্রিল মাসে দেশটিতে কয়লা উৎপাদনের হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, কয়লা উত্তোলন এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানিতে বড় ধরনের ভাটা পড়লেও দেশটির অভ্যন্তরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে দেশটির জ্বালানি বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম অথচ কঠোর ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিলে চীন মোট ৩৮ কোটি ৫৬ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করেছে। অথচ এর ঠিক আগের মাসেই, অর্থাৎ মার্চে দেশটিতে রেকর্ড ৪৪ কোটি ৬ লাখ টন কয়লা উৎপাদিত হয়েছিল। মার্চের সেই বিশাল অর্জনের তুলনায় এপ্রিলের এই পতন সংশ্লিষ্ট মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম চার মাসের (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল) সামগ্রিক খতিয়ান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চীন এই সময়ে মোট ১৫৮ কোটি টন কয়লা উৎপাদন করেছে। এই পরিমাণটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কম। যদিও উৎপাদন কমেছে, কিন্তু চীনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লার প্রয়োজনীয়তা কমেনি; বরং এপ্রিলে দেশটিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি আমদানির ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এপ্রিলে চীনের কয়লা আমদানি ১৪ শতাংশ কমে মাত্র ৩ কোটি ৩১ লাখ টনে নেমে এসেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একদিকে উত্তোলন ও আমদানির নিম্নমুখী প্রবণতা, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা-এই দুইয়ের চাপে চীনের জ্বালানি খাতের ওপর বর্তমানে এক ধরনের প্রবল টানাপোড়েন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।