বাঙালির রান্নাঘরের অন্যতম নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা শুকনা মরিচের বাজারে শুরু হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যটির আমদানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এই বন্দর দিয়ে শুকনা মরিচের আমদানি কমেছে প্রায় এক হাজার টন। সরবরাহে এমন ঘাটতি তৈরি হওয়ায় খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি শুকনা মরিচের দাম এক লাফেই ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
ভোমরা কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখা থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) এই বন্দর দিয়ে মোট ৪৮ হাজার ৩৭৫ টন শুকনা মরিচ আমদানি করা হয়েছে। আমদানিকৃত এই পণ্যের মোট বাজারমূল্য ছিল ১ হাজার ৩২৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অন্যদিকে, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৩৩২ টন। হিসাব কষে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে ভোমরা বন্দর দিয়ে শুকনা মরিচ আমদানি কমেছে প্রায় ৯৫৬ টন।
আমদানিকারক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই সংকটের মূল সূত্রপাত প্রতিবেশী দেশ ভারতে। সেখানে এবার শুকনা মরিচের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সেদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেই পণ্যটির দাম চড়া। ফলে বাড়তি মূল্যে পণ্য আমদানি করতে গিয়ে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ডলার। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশীয় পাইকারি ও খুচরা বাজারে।
আমদানি কমে যাওয়ার এই ধাক্কা সরাসরি টের পাওয়া যাচ্ছে সাতক্ষীরার স্থানীয় মসলা বাজারে। জেলা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গতকাল প্রতি কেজি শুকনা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকা দরে। অথচ মাত্র এক মাস আগেও এই বাজারে প্রতি কেজি শুকনা মরিচ মিলত ৩০০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে।
বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারি আড়তগুলোতেই এখন পর্যাপ্ত শুকনা মরিচ পাওয়া যাচ্ছে না। পাইকারি পর্যায়ে দাম একবারে কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম না বাড়িয়ে তাদের কোনো উপায় ছিল না। বাড়তি দামে কিনে তারা সামান্য মুনাফায় পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
দাম বৃদ্ধির এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এমএম আব্দুল্লাহ বলেন, “ভোমরা বন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক কমে গেছে। এই সরবরাহ ঘাটতির কারণেই মূলত শুকনা মরিচের বাজার দর চড়েছে। তবে ভারতে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং বন্দরে আমদানি বাড়লে দ্রুতই এই মসলার দাম আবার সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।”
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।