করহার নয়, বাড়বে করের আওতা: আসছে বাজেটে বড় সুখবর?

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে করসংক্রান্ত নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত প্রাক্-বাজেট আলোচনায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নতুন বাজেটে জনগণের ওপর করের বোঝা বা করহার বাড়ানো হবে না। এর পরিবর্তে কর আদায়ের ভিত্তি বা আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে সরকার।


পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় দেশের অর্থনীতিবিদ, এনবিআর চেয়ারম্যান এবং শীর্ষ করপোরেট নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সভায় আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল দেশের ভঙ্গুর রাজস্ব ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি। উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে দেশে কর আদায় তলানিতে ঠেকেছে। মূলত এসআরও বাণিজ্যের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই বিশেষ সুবিধা বা কর অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, যা এই খাতের প্রধান অসুখ। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।’


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, আগামী বাজেটে করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য সহজীকরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ওপর দ্রব্যমূল্যের বাড়তি চাপ কমাতে সরকার বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে।


তবে রাজস্ব খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান রাজস্ব খাতের প্রধান তিন চ্যালেঞ্জ—রাজস্ব ঘাটতি, প্রশাসনিক হয়রানি ও কর ফাঁকি মোকাবিলায় কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেন। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার বর্তমান করব্যবস্থাকে ‘মান্ধাতা আমলের’ উল্লেখ করে বলেন, করের হার বাড়ানোর বদলে বাণিজ্য কর কমানোই এখন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।


এদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করে বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ‘ঋণ ফাঁদের’ দিকে ধাবিত হচ্ছে। শিক্ষায় বিনিয়োগের চেয়ে এখন সরকারের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত।


অন্যদিকে, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের এমডি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান কর কর্মকর্তাদের হয়রানির ভয় এবং নিয়ম মেনে কর দেওয়ার পরও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার কথা তুলে ধরেন। সিমিন রহমান বলেন, যারা নিয়ম মেনে চলছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অথচ মূল রাজস্ব লিকেজ বা অপচয় হচ্ছে তদারকির অভাবে। নিট পোশাকশিল্পের প্রতিনিধি ফজলুল হকও প্রণোদনার ওপর আয়কর আরোপের মতো জটিলতা নিরসনের দাবি জানান।


সব মিলিয়ে, আগামী বাজেটে করের হার অপরিবর্তিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজস্ব কাঠামোতে যে আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন, তা উঠে এসেছে এই প্রাক-বাজেট আলোচনায়। এখন দেখার বিষয়, সরকার কতটা কার্যকরভাবে এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।