সুদের হার নিয়ে বড় খবর: গভর্নরের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো?

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা এবং শিল্প খাতের সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। সোমবার (২০ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যবসায়ীরা সুদের হার কমানো, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার বৃদ্ধি এবং ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গভর্নর তাদের অধিকাংশ যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করার ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।


বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) মহাসচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, দেশের শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সচল রাখতে বিনিয়োগের ব্যয় কমিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হারের কারণে অনেক উদ্যোক্তা হিমশিম খাচ্ছেন। তাই বিনিয়োগ বৃদ্ধির স্বার্থে সুদের হার দ্রুত ‘সিঙ্গেল ডিজিট’ বা এক অঙ্কে নামিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এফবিসিসিআই। এ ছাড়া সরকারি খাতে ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ কমিয়ে বেসরকারি খাতে অর্থপ্রবাহ বা ‘ক্যাশ ফ্লো’ বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।


বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বা ইডিএফ (EDF)। একসময় এই তহবিলের আকার ৭ বিলিয়ন ডলারে থাকলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপের কারণে তা বর্তমানে প্রায় ২.২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, কাঁচামাল আমদানির সুবিধার্থে ব্যবসায়ীরা এই তহবিলের আকার অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ৮ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। গভর্নর এই দাবিটি গুরুত্বের সাথে শুনেছেন এবং পর্যায়ক্রমে তহবিল বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


ঋণ পরিশোধের নীতিমালা নিয়েও বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ৩ মাস কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে যে কোনো ঋণগ্রহীতাকে খেলাপি ঘোষণা করা হয়। ব্যবসায়ীরা এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৬ মাস করার দাবি তুলেছেন। মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠান খেলাপি হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার অন্য সব প্রতিষ্ঠানকে খেলাপি দেখানোর যে চর্চা চলছে, তা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ঋণ পুনর্নির্ধারণ বা রিশিডিউলিংয়ের সময়সীমা বর্তমানের ৪-৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”


বৈঠকে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করে এফবিসিসিআই। সামগ্রিকভাবে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রিজার্ভের সংকটের মাঝে ব্যবসায়ীদের এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের স্থবিরতা কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।