সাইবার বুলিং রুখতে সংসদে সরব হওয়ার ঘোষণা; ইসি ভবনে বিএনপির নারী প্রার্থীদের বিশেষ পরিকল্পনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে দলটির মনোনীত প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলের অন্যতম নীতিনির্ধারক, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে প্রার্থীরা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।


মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেলিমা রহমান দলীয় কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের এক চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। বিএনপির এই ‘প্রবীণ-নবীন’ মিশ্রিত দলটি আসন্ন অধিবেশনে সংসদে অত্যন্ত কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দলটির এই সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন।


দলটির তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ও সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী সানসিলা জেবরিন (প্রিয়াঙ্কা) এ সময় নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংসদে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কার। তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ‘উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট’ নিয়েও তাঁর বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, সানসিলা জেবরিন এর আগে শেরপুর-১ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নিজের এলাকার অনুন্নত অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শেরপুর সদরে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের মতো মৌলিক সেবার চরম সংকট রয়েছে। এমনকি রেললাইন ও উন্নত সড়কপথের অভাবেও ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। নির্বাচিত হলে ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং শেরপুরকে একটি আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।


অন্যদিকে, অপর প্রার্থী সেলিনা সুলতানা নিশিতা সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী রাজনীতিবিদদের ওপর ‘বুলিং’ ও অপপ্রচারের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাইবার জগতের এই অসুস্থ পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে রুচিশীল ও শিক্ষিত পরিবারের নারীরা রাজনীতিতে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। সংসদে তিনি এই ডিজিটাল হয়রানি বন্ধে জোরালো দাবি তুলবেন বলে জানান।


মঙ্গলবার সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশন ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। বিএনপির পাশাপাশি এদিন ১১টি দলের মনোনীত নারী প্রার্থীরাও পৃথকভাবে নিজ নিজ মনোনয়নপত্র জমা দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত আসনে এই নতুন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের উপস্থিতি সংসদীয় বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।