‘গাড়ি নেই, কিন্তু মেইনটেন্যান্স ভাতা ৭০ হাজার’— সংসদে দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন এমপি হাসনাত!

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ সাশ্রয় এবং জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটি ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। তবে এই ইস্যুতে গতকাল মঙ্গলবার সংসদে দেওয়া এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি বক্তব্য ঘিরে গণমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল জল্পনাকল্পনা। তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এই সংসদ সদস্য। এই বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে আজ বুধবার জাতীয় সংসদে ফ্লোর নিয়ে ‘ব্যক্তিগত কৈফিয়ত’ দিয়েছেন তিনি।


সংসদে দাঁড়িয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ স্পষ্টভাবে জানান, এমপিদের জন্য তিনি কোনোভাবেই শুল্কমুক্ত (ট্যাক্স-ফ্রি) গাড়ি দাবি করেননি; বরং তিনি ডিসি ও ইউএনওদের মতো সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য সাময়িকভাবে একটি গাড়ির প্রস্তাব দিয়েছিলেন মাত্র।


আজকের অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পর সরকারি দল ও বিরোধী দল, প্রত্যেকে একটা কমিটমেন্ট দিয়েছে। বহুদিনের প্রচলিত ট্যাক্স ফ্রি (শুল্কমুক্ত) গাড়ি এবং প্লট আমরা নেব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতকাল এই বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়েই সংসদে আমি একটি বক্তব্য প্রদান করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকে বিভিন্ন মিডিয়াতে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।’


নিজের প্রস্তাবের ব্যাখ্যা দিয়ে এই এনসিপি নেতা বলেন, ‘জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ডিসি, ইউএনও, এসি ল্যান্ডসহ অন্যান্য সরকারি অফিসাররা তাদের দাপ্তরিক ও সরকারি কার্য পরিচালনা করার জন্য যেভাবে একটি সরকারি গাড়ি পেয়ে থাকেন, ঠিক একই প্রক্রিয়ায় আমাদের যারা সংসদ সদস্য আছেন, তাদেরও দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে একটি গাড়ি ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, সেটিই আমি এই সংসদে জানিয়েছিলাম।’


এমপিদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতার একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটি সরকারি মালিকানাধীন গাড়ি, জনপ্রতিনিধিরা ঠিক যত দিন এমপি থাকবেন, তত দিনই ব্যবহার করবেন। সেটার জন্য এক্সট্রা (অতিরিক্ত) কোনো খরচও লাগবে না। কারণ, সংসদ সদস্যদের ইতিমধ্যে ৭০ হাজার টাকা গাড়ি মেইনটেন্যান্স করার জন্য দেওয়া হয়। এখন বাস্তবতা হলো—গাড়ি মেইনটেন্যান্সের জন্য ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের কোনো গাড়ি নেই! গতকালের বক্তব্যে আমি কোনো ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি চাইনি।’


মিডিয়াতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার কারণেই সংসদে বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করছেন বলে উল্লেখ করেন হাসনাত। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘সকল এমপিদের পক্ষ থেকে আমরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি বা প্লটের মতো কোনো স্থায়ী সুবিধা চাই না। অন্যান্য সরকারি সুবিধার মতোই, যত দিন একজন ব্যক্তি এমপি থাকবেন ঠিক তত দিন তিনি গাড়িটি ব্যবহার করবেন এবং এমপির মেয়াদ শেষ হলে গাড়িটি আবার সরকার ফিরিয়ে নেবে।’


হাসনাত আবদুল্লাহর এই দীর্ঘ ব্যাখ্যার পর সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি এর আগেই ক্লিয়ার (পরিষ্কার) করা হয়েছে। আমার মনে হয় সংসদ সদস্যগণ ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি এবং প্লট না নেওয়ার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, এতে দেশবাসী ইতিমধ্যেই তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছে।’


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।