দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সাথেই বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। সোমবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের (ঢাকা-১৮) এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই তথ্য প্রকাশ করেন।
সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, কেবল ভারত নয়, সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশ যেমন—আফগানিস্তান, ভুটান ও পাকিস্তানের সাথেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান। তবে এর বিপরীতে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সাথে বাণিজ্যিক লেনদেনে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং এসব দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।
শিল্পমন্ত্রীর পেশ করা বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি ছিল মাত্র ১,৭৬৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে একই সময়ে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯,৬২৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ফলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭,৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারের সমান।
অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, পাকিস্তানের সাথেও বাংলাদেশের বড় ধরনের বাণিজ্য ব্যবধান রয়েছে। পাকিস্তানে বাংলাদেশ ৭৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও দেশটি থেকে আমদানি করেছে ৭৫৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে পাকিস্তানের সাথে ঘাটতির পরিমাণ ৬৮১ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার। একইভাবে ভুটানের সাথে ২৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন এবং আফগানিস্তানের সাথে ১০ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে বাংলাদেশ।
তবে আঞ্চলিক বাণিজ্যে নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি পারফরম্যান্স সন্তোষজনক। নেপালে ৩৫ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে মাত্র ৫ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও ৮২ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির বিপরীতে আমদানি ব্যয় ছিল ৭৬ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া মালদ্বীপের সাথেও বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বজায় রেখেছে বাংলাদেশ।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের সাথে এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি আরও জোরদার এবং নন-ট্যারিফ বাধাগুলো অপসারণ করা জরুরি। শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তাঁর বক্তব্যে আঞ্চলিক বাণিজ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও সংসদকে অবহিত করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া