ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন: লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে এপ্রিলের তৃতীয় চালান

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও এক বড় চালান ডিজেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। চলতি এপ্রিল মাসে তৃতীয় দফায় আসা এই চালানে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুরে গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত রেলহেড অয়েল ডিপোর ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ প্রকল্পের রিসিভ টার্মিনালে এই জ্বালানি তেল এসে পৌঁছায়। মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) কাজী রবিউল আলম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত সোমবার রাতে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে এই ডিজেল পাম্পিং করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আজ সকালে গন্তব্যে পৌঁছাল।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ২৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, গত ১১ এপ্রিল প্রথম চালানে ৮ হাজার টন এবং ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয় চালানে ৫ হাজার টন ডিজেল দেশে এসেছে। আজকের ৭ হাজার টনসহ চলতি মাসে এখন পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ২০ হাজার টন ডিজেল দেশে এসে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৩৫ হাজার টন ডিজেল এই রুট দিয়ে আমদানি করা হয়েছে। এর আগে গত মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে মোট ২২ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করেছিল ভারত।

পার্বতীপুরের রিসিপ্ট টার্মিনালে তেল পৌঁছানোর পর তা রাষ্ট্রীয় জ্বালানি বিপণনকারী তিন সংস্থা— পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে সারাদেশে বণ্টন করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় সেচ মৌসুম ও পরিবহন খাতে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন চাহিদা মেটাতে এই পাইপলাইন প্রকল্পটি আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূ-গর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আমদানির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর ভারত বাংলাদেশকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ডিজেল সরবরাহ করবে। আগে খুলনা বা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল পাঠাতে যেখানে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগত, এখন তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্ভব হচ্ছে। এই পাইপলাইনের বার্ষিক পরিবহন ক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ টন, যা দেশের জ্বালানি খাতের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া