হামের মরণকামড়ে আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি; আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বাড়ছে চরম উদ্বেগ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছোবলে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে এবং বাকি দুজন হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারায়। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে।


অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংক্রমণের ধারায় এ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১৮৫টি শিশু। অর্থাৎ, গত এক মাসের সামান্য বেশি সময়ে হাম ও সংশ্লিষ্ট জটিলতায় মোট ২২৩টি শিশু অকালমৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে যে শিশুটি মারা গেছে সেটি ঢাকা বিভাগের। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে বরিশাল ও সিলেট বিভাগে।


বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলোতে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১৫৯টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এদের মধ্যে ৯১৩টি শিশুকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বরাবরের মতো ঢাকা বিভাগেই সংক্রমণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি; একদিনে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ৪৪৫ জনই এই বিভাগের। একই সময়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে ১৮৮ জন শিশুর শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।


তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ৮৪৮টি শিশু। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই রয়েছে ৩৮৯ জন শিশু।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সারা দেশে সর্বমোট ২৫ হাজার ৯৩৫টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়েছে। সংক্রমণের ভয়াবহতা বিচার করে এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৮৫টি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৮০৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা শেষে এখন পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ১০৬ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।


চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে। শিশুদের মধ্যে উচ্চমাত্রার জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কয়েক গুণ বেশি। বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য বিভাগকে আরও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।