হামের কিট সংকট ও শিশুমৃত্যু: সংসদে দাঁড়িয়ে যে বড় ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ও হাম পরীক্ষার কিটের চরম সংকটের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি জানিয়েছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এদিনের সংসদীয় বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।


অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি জানান, চট্টগ্রামের একমাত্র সংক্রামক রোগের চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসহ দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে হাম শনাক্তকরণের ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে হামের নমুনা সংগ্রহ করে তা ঢাকার পাবলিক হেলথ সেন্টারের ‘ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড রুবেলা ল্যাবরেটরি’-তে পাঠাতে হচ্ছে। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ার কারণে রোগীদের রোগ শনাক্তে ব্যাপক ভোগান্তি ও দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে। এই নাজুক পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেবে কি না, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।


জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরুতেই এই পরিস্থিতিকে ‘খুব দুঃখজনক ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘টেস্ট করার যে কিটটি, সেটির স্বল্পতা রয়েছে, সঠিক। এটির ব্যাপারেও সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে অনেক কিট এসে পৌঁছেছে। কিছু কিট এই মুহূর্তে এয়ারপোর্টে আছে। সেগুলো দ্রুত ছাড় করানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’


প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ যখন হাম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল, ঠিক তখনই চলতি বছর এই ভয়াবহ রোগের নতুন করে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩৭ দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৮টি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অনেকেই এই অবনতিশীল পরিস্থিতির জন্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা আমদানিতে চরম উদাসীনতাকে সরাসরি দায়ী করছেন।


সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি স্বৈরাচারী সরকারকে হটানোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দুঃখজনক ব্যাপার হলো, সেই স্বৈরাচারের সময় এবং আরও দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আমরা যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলাম দেশে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য, দুঃখজনকভাবে সেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শিশুদের হামের টিকা কয়েক বছর ধরে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি।’


শিশুমৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুঃখজনক, অনেকগুলো শিশুর প্রাণ ঝরে গিয়েছে, আমাদের মাঝ থেকে চলে গিয়েছে। কিন্তু সামনে আমরা চেষ্টা করছি, যাতে আমরা এই পুরো সিচুয়েশনকে ম্যানেজ করতে পারি। সে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।’ তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ হামের টিকা সরবরাহ করে সরকারকে সহায়তা করছে। তাদের পাঠানো টিকা দিয়ে দেশব্যাপী প্রায় ২ কোটি শিশুকে দ্রুত হামের টিকা দেওয়া হবে।


এদিকে, আজকের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। ফ্লোর নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সার সরবরাহের জন্য যেসব ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তারা এখনো বহাল তবিয়তে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই অসাধু ডিলাররা সময়মতো সার উত্তোলন না করে দেশের কৃষিখাতে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করার গভীর ষড়যন্ত্র করছেন। এই অরাজকতা ঠেকাতে নতুন করে ডিলার নিয়োগের জন্য সংসদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে চিফ হুইপের এই যৌক্তিক বক্তব্যকে জোরালো সমর্থন জানান।


সংসদ সদস্যদের এই স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যেহেতু পুরো সংসদ এই বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এ ব্যাপারে সবার সর্বসম্মত সম্মতি রয়েছে, তাই সরকার অতি শিগগিরই সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।