বীরশ্রেষ্ঠদের সম্মানে জাতীয় সংসদ: প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে গ্যালারিগুলোর নামকরণে আমূল পরিবর্তন

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় সংসদ ভবনের গ্যালারিগুলোতে এখন থেকে প্রতিধ্বনিত হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বীরত্বগাথা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ পরামর্শ ও নির্দেশনায় সংসদ ভবনের বিভিন্ন গ্যালারির নাম পরিবর্তন করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণ করা হয়েছে। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কথা জানানো হয়।

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সংসদের এই গ্যালারিগুলো বিভিন্ন ফুল ও নদীর নামে পরিচিত ছিল। তবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে বীরদের সম্মাননা স্থায়ী রূপ দিতে এই নামগুলো সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই বিন্যাস অনুযায়ী, সংসদ ভবনের ৩ নম্বর গ্যালারিটি এখন থেকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ গ্যালারি’ নামে পরিচিত হবে। ৪ নম্বর গ্যালারির নাম রাখা হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্যালারি’। ৫ নম্বর গ্যালারিটি উৎসর্গ করা হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন’-এর স্মৃতির প্রতি। এছাড়া ৬ নম্বর গ্যালারি ‘বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ’ এবং ৭ নম্বর গ্যালারিটি ‘বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল’-এর নামে নামকরণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত ভিআইপি গ্যালারিগুলোতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে ভিআইপি গ্যালারি-১ ‘বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর’ এবং ভিআইপি গ্যালারি-২ ‘বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান’-এর পুণ্য নামে পরিচিত হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয় যে, গ্যালারি-১ এবং গ্যালারি-২ পূর্বের ন্যায় পেশাদার সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের ভেতর মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা কেবল দাপ্তরিক নথিতে নয়, বরং দৃশ্যমানভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল। দেশের আইন প্রণয়নস্থলে বীরশ্রেষ্ঠদের নামগুলো বারবার উচ্চারিত হওয়ার মাধ্যমে দেশপ্রেমের এক অনন্য নজির স্থাপিত হলো। প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নামকরণের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় জীবনে বীরদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের ইতিহাসকে চিরস্থায়ী করা এবং সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বা দেখতে আসা প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে স্বাধীনতার চেতনাকে জাগ্রত রাখা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া