দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ছাত্র শিবিরের কৌশলী অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিস্ফোরক ও দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা রাশেদ খান। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ছাত্র শিবিরের ‘গোপন’ রাজনীতির সমালোচনা করার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “লীগ ফিরলে সকল হাউকাউ কিন্তু তারাই বন্ধ করে দিবে।”
রাশেদ খান তার লেখনীতে শিবিরের আত্মপরিচয় গোপন রাখার কৌশলটি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র শিবিরের একটি বড় অংশ নিজেদের পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে ভয় পায়, যার মূল কারণ হিসেবে তিনি সরকারি চাকরিবাকরি এবং ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন’ ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। রাশেদ খানের ভাষ্যমতে, জামায়াত ক্ষমতায় না থাকায় শিবিরের নেতাকর্মীরা মনে করেন, পরিচয় প্রকাশ পেলে রাজনৈতিক কারণে তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। আর এই আশঙ্কার কারণেই তারা ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ের আড়ালে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।
তীব্র সমালোচনা করে এই রাজনৈতিক নেতা আরও বলেন, শিবিরের একটি অংশ কৌশলে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে এই দ্বিমুখী নীতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কারণ, সাধারণ ছাত্রদের মধ্যেও এখন এক ধরণের সন্দেহ ও সংশয় তৈরি হয়েছে—কে প্রকৃত শিক্ষার্থী আর কে শিবিরের কর্মী? এই পরিচয় সংকটকে তিনি একটি বড় ধরনের ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে শিবিরের ভূমিকার সমালোচনা করে রাশেদ খান লিখেন, বর্তমান সরকার বিরোধীদল হিসেবে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। কিন্তু শিবিরের পক্ষ থেকে ক্রমাগত ‘নব্য ফ্যাসিবাদ’, ‘চাঁদাবাজ’ কিংবা ‘সংস্কার বিরোধী’ তকমা দিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। এমনকি ১৬ দিনের মধ্যে সরকারের পতন ঘটানো বা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের মতো অবস্থায় ফেলার হুমকির তীব্র নিন্দা জানান তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একদিকে সরকারের বিরোধিতা করে বিষোদগার করবেন, আবার সব ক্ষেত্রে সমান সুযোগও চাইবেন—বাংলাদেশের বাস্তবতায় এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পোস্টের শেষে শিবিরের উদ্দেশ্যে একটি কড়া বার্তা দিয়ে রাশেদ খান বলেন, যদি রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন না আসে এবং পারস্পরিক সহনশীলতা তৈরি না হয়, তবে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আবারও আওয়ামী লীগের মতো শক্তি ফিরে আসতে পারে। আর যদি তেমনটি ঘটে, তবে এখনকার সব রাজনৈতিক বিতর্ক বা ‘হাউকাউ’ তারা কঠোর হস্তে স্তব্ধ করে দেবে। দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শিবিরের উচিত রাখঢাক ছেড়ে প্রকাশ্য ও গঠনমূলক রাজনীতি রপ্ত করা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া