২০২৫-এর নতুন বেতন স্কেল: সুপারিশ চূড়ান্ত করতে মাঠে নামছে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ‘জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫’, ‘বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ২০২৫’ এবং ‘সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫’-এর প্রতিবেদন ও সুপারিশগুলো পর্যালোচনার লক্ষে সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই শক্তিশালী কমিটি মোট ১০ জন সদস্যের সমন্বয়ে কাজ করবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় সরকারি চাকুরেদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয়াদি চূড়ান্ত করতেই এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ শুরু করছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকছেন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটিতে রাখা হয়েছে হিসাব মহানিয়ন্ত্রককে (সিজিএ)।

কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে জানানো হয়েছে, পুনর্গঠিত এই কমিটি তিনটি পৃথক কমিশনের (জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি) দাখিল করা ২০২৫ সালের প্রতিবেদনসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান এবং মুদ্রাস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে তারা সরকারকে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রদান করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অর্থ বিভাগ এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। কমিটির সদস্যরা প্রয়োজন অনুসারে যেকোনো সময় বৈঠকে মিলিত হতে পারবেন এবং একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে হস্তান্তর করবেন। কমিটির এই সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত হবে আগামী দিনের নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো। প্রশাসনের মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই কমিটি পুনর্গঠনের ফলে নতুন করে আশা ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া