উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা নিয়ে তদন্ত শুরুর একদিনের ব্যবধানেই এবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবারের তদন্তের মূল বিষয়বস্তু হলো, পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে এই দেশগুলো নিজ নিজ ভূখণ্ডে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) গতকাল বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ব্যাপকভিত্তিক তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত বুধবারই উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং অতিরিক্ত উৎপাদন খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে পৃথক একটি তদন্ত শুরু করেছিল দেশটি। পরপর দুটি তদন্তের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গনে বাংলাদেশের ওপর মার্কিন নজরদারির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইউএসটিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারা অনুযায়ী এই নতুন তদন্ত পরিচালিত হবে। তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো, জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিদ্যমান আইন, নীতি এবং তার বাস্তব প্রয়োগ কতটা যুক্তিযুক্ত বা বৈষম্যমূলক, তা মূল্যায়ন করা। একইসঙ্গে এই প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বাণিজ্য বা অর্থনীতির ওপর কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা বা বোঝা তৈরি করছে কি না, তাও যাচাই করা হবে।
এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, "জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও অনেক দেশের সরকার তাদের নিজেদের বাজারে এই ধরনের অনৈতিক উপায়ে উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার কার্যকর প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এই তদন্তের মাধ্যমে আমরা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে চাই, বিদেশি সরকারগুলো জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি হওয়া পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিয়েছে কি না এবং এই ধরনের অনৈতিক চর্চা মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।"
যে ৬০টি দেশ ও অঞ্চলের বিরুদ্ধে এই তদন্ত শুরু হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কম্বোডিয়া, কানাডা, চিলি, চীন, মিশর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনামসহ আরও অনেক দেশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো বিদেশি সরকারের নীতি বা কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক বলে প্রমাণিত হয়, তবে ওয়াশিংটন তার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করার অধিকার রাখে। আইনের ৩০২(বি) ধারা ইউএসটিআরকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ ধরনের তদন্ত শুরু করার ক্ষমতা দিয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউএসটিআর ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য অনুরোধ পাঠিয়েছে। আগামী ২৮ এপ্রিল এ বিষয়ে একটি উন্মুক্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই তদন্ত বিষয়ে লিখিত মতামত দিতে, শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে বা সাক্ষ্যের সারসংক্ষেপ জমা দিতে আগ্রহী, তাদের আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।