রেমিট্যান্সে বড় উল্লম্ফন: মাত্র ৩ সপ্তাহে দেশে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়!

রেমিট্যান্সে বড় উল্লম্ফন: মাত্র ৩ সপ্তাহে দেশে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়!

দেশের অর্থনীতির সঞ্জীবনী শক্তি হিসেবে পরিচিত রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের সুসংবাদ এসেছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ২১ দিনে দেশে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। বর্তমানে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ হাজার ১৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।


বৈদেশিক মুদ্রার এই প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২১ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই হিসেবে চলতি বছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। রেমিট্যান্স আহরণের এই চিত্রে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।


রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসীদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আহরণে বড় ধরনের গতিশীলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


শুধু ফেব্রুয়ারি মাসই নয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্রও বেশ আশাব্যঞ্জক। গত ১ জুলাই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৮৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ অর্থবছরের হিসেবেও রেমিট্যান্সে ২১ দশমিক ৬ শতাংশের একটি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।


এর আগে সদ্য বিদায়ী জানুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্সের প্রবাহ ছিল তুঙ্গে। পুরো জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশীয় মুদ্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার সমান। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।