আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং নানা অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়তে দিচ্ছে না সরকার। আসন্ন এপ্রিল মাসে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের বর্তমান দর অপরিবর্তিত রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন খাতসহ সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২ টাকা করে কমানো হয়েছিল। সেই সময় ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ১০২ টাকা থেকে নামিয়ে ১০০ টাকা করা হয়। এছাড়া অকটেন ১২২ টাকা থেকে কমে ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৮ টাকা থেকে ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ফেব্রুয়ারি মাসে কার্যকর হওয়া সেই হ্রাসকৃত মূল্য মার্চ মাসেও বহাল ছিল। বর্তমানে নতুন মাস এপ্রিলেও সেই একই হার কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ এপ্রিল মাসেও ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা দরেই বিক্রি হবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে বর্তমানে ‘স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে’ জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজার দর বিশ্লেষণ করে নতুন দাম ঘোষণা করে সরকার। ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’-এর আলোকেই এপ্রিল মাসে তেলের দাম না বাড়ানোর এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করেই এবারও তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার পথে হেঁটেছে মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে পণ্য পরিবহন ও জনজীবনে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।