বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফিরেই ট্রাম্পের চরম হুঙ্কার; তিন সেনার প্রাণের বদলা নিতে ইরানে বিধ্বংসী হামলা!

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বারুদের গন্ধ এখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল উপভোগ শেষে ওয়াশিংটনে ফিরেই ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও বিধ্বংসী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, গত কয়েক দিনে নিহত হওয়া মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে জোরালো হামলা চালানো হচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি গোলারূপাতে পুরো অঞ্চল এখন এক অনিশ্চিত যুদ্ধের ‘প্যাকেজ’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, গত শনিবার ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইরানের এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় আরও একজন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এর ঠিক একদিন আগে জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন এবং একজন নিখোঁজ হন। নিখোঁজ সেই সেনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক তথ্য মেলেনি। তবে মার্কিন ‘সেন্ট্রাল কমান্ড’ বা ‘সেন্টকম’ (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জর্ডানে হামলার স্থানে তল্লাশি চালিয়ে কিছু অজ্ঞাত পরিচয় মানবদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা বর্তমানে ‘ডিএনএ’ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

ওয়াশিংটনে ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমরা আজ রাতে আবারও তাদের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী হামলা চালিয়েছি। আমাদের এই পদক্ষেপ সম্ভবত সেই তিনজন মহান দেশপ্রেমিকের সম্মানে, যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন।” সেনাসদস্যদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, “নিহত সেই বীরেরা মূলত লড়াই করছিলেন যেন ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে এবং বিশ্বকে বিপদে ফেলতে না পারে।” ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এখন কোনো ধরনের ‘ডিপ্লোম্যাটিক’ আলোচনার চেয়ে সামরিক শক্তি প্রদর্শনেই বেশি আগ্রহী।

এদিকে, আজ সোমবার ভোররাত থেকেই নতুন করে কেঁপে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ। মার্কিন সেন্টকম নিশ্চিত করেছে যে, তারা টানা নবম রাতের মতো ইরানের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করেছে। এই আকাশপথের লড়াইয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েত সরকার দাবি করেছে, তারা তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা বেশ কয়েকটি ড্রোন সাফল্যের সাথে প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ বা ‘আইআরজিসি’ (IRGC) দাবি করেছে, তারা সিরিয়ায় অবস্থানরত ‘শত্রুবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে’ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আজ ভোরে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিকটস্থ আন্ডারগ্রাউন্ড ‘শেল্টার’ বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইরাকের সেই ড্রোন হামলার বিষয়ে সেন্টকম বিস্তারিত জানিয়ে বলেছে, ইরানের একটি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করার পর তার ভেতরে থাকা অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের বিস্ফোরণেই মূলত মার্কিন সেনার মৃত্যু ঘটে। আধুনিক প্রযুক্তির ‘স্মার্টফোন’ ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত যুদ্ধের মেঘ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ‘ডেডলাইন’ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।