ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কানাডার আকাশসীমা ব্যবহার করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির সরকার। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে সিটিভি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনিতা আনন্দ বলেন, বিশেষ বিমান চলাচলসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি ইতোমধ্যে নিজের দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে নেতানিয়াহুকে কানাডা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে কি না এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।
আনিতা আনন্দ বলেন, কানাডার অবস্থান হলো আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা এবং গাজা, ফিলিস্তিন ও পশ্চিম তীরসহ সংঘাত ও দুর্ভোগে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
কানাডায় রাষ্ট্রীয় বিমানে কোনো অতিথি সফর করলে দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারের আগে নির্দিষ্ট কূটনৈতিক অনুমতির প্রয়োজন হয়। এ ধরনের সফরের ক্ষেত্রে অন্তত তিন কর্মদিবস আগে অটোয়ার কাছে অনুমতির আবেদন করার নিয়ম রয়েছে।
এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহু কানাডায় প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ অবস্থায় নেতানিয়াহুর বিমান কানাডার আকাশসীমা ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়ে সরকারের আগ্রহ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গাজায় সংঘাতের ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ইসরায়েল অবশ্য এসব অভিযোগ ও আদালতের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক সফরের কথা রয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর। তাঁর সফরকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের অবস্থান, আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা এবং আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর বিমান দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার করেছে কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এ বিষয়ে কানাডা সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।