ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। রোববার নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির (এফডিআই) যুব শাখার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। প্রস্তাবটি শিগগিরই মন্ত্রিসভায় তোলার কথা রয়েছে।
মেলোনির ঘোষিত পরিকল্পনায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের ইতালির শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত হতে গুরুতর সমস্যা রয়েছে, তাদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতাও রাখা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব পদক্ষেপকে ভাষা, সংস্কৃতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একীভূত হওয়ার বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা কত হবে, সে বিষয়ে মেলোনি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানাননি। ইতালিতে এরই মধ্যে ২০১০ সাল থেকে প্রতি শ্রেণি ও স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাধারণভাবে ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার নিয়ম রয়েছে। ভাষাগত দক্ষতা ও স্থানীয় পরিস্থিতির ভিত্তিতে কিছু ক্ষেত্রে এই সীমা বাড়ানো বা কমানোর সুযোগও রয়েছে।
ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (আইএসটিএটি) অনুযায়ী, দেশটির স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর হার মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ শতাংশ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বর্তমান হার প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বোরকা ও নেকাবের বিষয়ে ইতালিতে বর্তমানে সরাসরি স্কুলকেন্দ্রিক নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট আইন নেই। ১৯৭৫ সালের একটি আইনে যথাযথ কারণ ছাড়া এমন পোশাক বা হেলমেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে। পরে ২০০৮ সালে দেশটির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত ব্যাখ্যা দেয়, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরা যেতে পারে; তবে পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে মুখ উন্মুক্ত করতে হবে।
এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে স্কুলে বোরকা ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের দাবি তুলেছিল ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) পার্টি। দলটি ক্ষমতাসীন জোটের অংশ নয় এবং রাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে মেলোনির ব্রাদার্স অব ইতালির চেয়েও ডানপন্থী। ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশের পর দলটির জনসমর্থন বাড়ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, মেলোনির জোটসঙ্গী লিগ পার্টিও চলতি বছরের শুরুতে মুখ ঢেকে রাখার পোশাক ও হেলমেট ব্যবহারে আরও কঠোর বিধিনিষেধের প্রস্তাব করে সিনেটে একটি বিল জমা দিয়েছিল। প্রস্তাবিত বিধিনিষেধে ক্রীড়া অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিকে ব্যতিক্রম রাখার কথা বলা হয়েছিল।
মেলোনির ঘোষিত নতুন পদক্ষেপ এখনো আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। সরকারের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ফলে স্কুলে বোরকা-নেকাব নিষিদ্ধ করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে নতুন আইনি কাঠামো বাস্তবায়নে আরও প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।