যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সংঘাত অবসানে একটি ‘রোডম্যাপ’ বা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে ইরান। আঞ্চলিক কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এতে পুরো অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সংঘাতের স্থায়ী অবসানে বিস্তৃত আলোচনার সময়সূচির প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবে ইরানের আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেন। জ্যারেড কুশনারও মার্কিন পক্ষের আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। কাতার, পাকিস্তান ও মিসরের মধ্যস্থতায় এই যোগাযোগ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময়ের মধ্যে সংঘাতের স্থায়ী অবসান এবং দুই দেশের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। ইরানি কর্মকর্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময়কে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেও দেখছেন।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কূটনীতির পথের জন্য এখনো উন্মুক্ত। তবে একই সঙ্গে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফলে দুই পক্ষের আলোচনায় কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়লেও মূল শর্তগুলো নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানো ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা রাখছে। সংঘাতের প্রভাবে আরব উপদ্বীপের আশপাশে জাহাজ চলাচল ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোও অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চাপের মুখে রয়েছে।
এখনো হয়নি চুক্তি
তবে ইরানের রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার কোনো চূড়ান্ত চুক্তি এখনো ঘোষণা হয়নি। আলোচনার পরবর্তী ধাপে দুই পক্ষ শর্তের ক্রম, অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়গুলো কীভাবে সমন্বয় করবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের আলোচনাকে ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে অগ্রগতির কথা বলেছেন। তবে জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো অথবা সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার বিকল্পের কথাও তুলে ধরেন।
ফলে নিউইয়র্কের কূটনৈতিক তৎপরতার পরও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ভবিষ্যৎ এখনো আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রস্তাব সামনে এলেও তা বাস্তবায়নে দুই পক্ষের সম্মতি এবং পরবর্তী আলোচনায় অগ্রগতি প্রয়োজন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।