বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশায় বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বরের চুক্তির দাম ১ দশমিক ০৯ ডলার বা ১ দশমিক ০৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ২৫ ডলারে নেমে আসে। এর মধ্য দিয়ে ৮ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ১০০ ডলারের নিচে দিন শেষ করে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও কমেছে। বাজারে সবচেয়ে সক্রিয় নভেম্বরের ডব্লিউটিআই চুক্তি দিনের এক পর্যায়ে ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তেলের বাজারে এই পতনের পেছনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা বড় ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও তাঁর প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে এসব কূটনৈতিক তৎপরতা বাজারে চলমান সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
তেলের বাজারে স্বস্তি ফেরানোর আরেকটি কারণ সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন পুনরায় চালু করা। ১১ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই পাইপলাইন দিয়ে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান।
সৌদি আরব পাইপলাইনটি আংশিকভাবে চালু করায় ইয়ানবু বন্দর থেকে আবারও তেল রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলায় পাইপলাইনের কয়েকটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো সক্ষমতায় ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইরাক থেকেও অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়ছে। দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ইরাকের তেল রপ্তানি দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়েছে। তুরস্কের মাধ্যমে রপ্তানি দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি করার প্রক্রিয়াও চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তেলের বাজারে দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত বৃদ্ধিও বাজারে দামের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৮ লাখ ব্যারেল বেড়েছে বলে শিল্পখাতের প্রাথমিক তথ্য জানিয়েছে। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা বরং মজুত কমার প্রত্যাশা করেছিলেন।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি, সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি পথ সক্রিয় হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক তৎপরতার সম্ভাবনা বিশ্ববাজারে তেলের দামে সাম্প্রতিক পতনকে ত্বরান্বিত করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।