জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার প্রাক্কালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ ও ‘গণহত্যার স্থপতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জোহরান মামদানি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পৌঁছামাত্রই তাঁকে গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক সিটিতে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরপরই এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মামদানি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জোহরান মামদানি বলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণ সম্মান দেখানো উচিত। কেননা কোনো ব্যক্তি বা সরকারপ্রধানই আইনের ঊর্ধ্বে কিংবা জবাবদিহিতার বাইরে থাকতে পারেন না। তিনি আরও খোলাসা করেন, নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যাসি ম্যানশনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও এই স্পর্শকাতর বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মামদানি স্পষ্ট জানান, সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে যখনই নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রবেশ করবেন, তখনই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা উচিত।
যদিও বিগত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর তীব্র বিরোধিতা করে তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সরব ছিলেন মামদানি, তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তাঁর কিছুটা বাস্তবসম্মত অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এককভাবে কার্যকর করার আইনি বা প্রশাসনিক এখতিয়ার তাঁর নেই। পাশাপাশি তিনি এও নিশ্চিত করেছেন যে, নেতানিয়াহুর আসন্ন সফর ঘিরে নিউইয়র্কের রাজপথে কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেবেন না। উল্লেখ্য, পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক সূচি অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর।
এর আগে গ্র্যাসি ম্যানশনে আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সব ধরনের তীব্র রাজনৈতিক ও নীতিগত মতপার্থক্য একপাশে সরিয়ে রেখে গঠনমূলক আলোচনায় বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জোহরান মামদানি। দীর্ঘ সেই সংলাপে মূলত জাতীয় অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের কৌশল এবং নিউইয়র্ক শহরের জন্য প্রস্তাবিত একটি বিলিয়ন ডলারের মেগা আবাসন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশদ পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতার ভিন্নধর্মী উষ্ণতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মামদানির দায়িত্ব পালনের মেয়াদী সূচনার ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁর নেতৃত্বের ওপর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে তীব্র মতাদর্শিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও জোহরান মামদানি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানান, নিজ শহরের সাধারণ বাসিন্দাদের স্বার্থরক্ষা ও নাগরিক সুবিধার সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা দিতেই তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কার্যকর ও নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার পথ বেছে নিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।