জেএফকে এড়িয়ে নিউ জার্সিতে নামবে নেতানিয়াহুর বিমান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, নেতানিয়াহুকে বহনকারী সরকারি উড়োজাহাজ ‘উইং অব জায়ন’ নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে না নেমে নিউজার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অথবা রাজ্যটির কোনো সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করতে পারে।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথ এর প্রতিবেদনের বরাতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিমান অবতরণ ও পার্কিং নিয়ে সমন্বয়ের জটিলতা এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির অবস্থান দুটিই বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহারের পেছনে বিবেচনায় রয়েছে। তবে এটি এখনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সূত্রনির্ভর তথ্য; ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অবতরণস্থল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে মামদানির সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও আইনি মতবিরোধ আগে থেকেই প্রকাশ্যে এসেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে মামদানি জানিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি ক্ষমতা শহরটির আছে কি না, তা তাঁর প্রশাসনের আইন বিভাগ পর্যালোচনা করছে। পরে তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্বভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষমতা নেই।

এরপরও মামদানি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরেও তিনি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর গ্রেপ্তারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। নেতানিয়াহু এসব অভিযোগের জবাব দিতে জাতিসংঘে নিজের বক্তব্য ব্যবহার করবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে নেতানিয়াহুর এবারের নিউইয়র্ক সফরও বেশ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায় ২৪ ঘণ্টার একটি সফরে নিউইয়র্কে আসবেন। সাম্প্রতিক ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে রাত না কাটিয়ে জাতিসংঘের কর্মসূচি শেষ করেই ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

সফর ঘিরে নিউইয়র্কে সম্ভাব্য বিক্ষোভও নিরাপত্তা পরিকল্পনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে শহরে একাধিক বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে। ফলে নেতানিয়াহুর চলাচল ও অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরের আরেকটি কর্মসূচিও বাতিল হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। টেক্সাসে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা ছিল। তবে বিমানকে জ্বালানি নিতে কোথায় থামানো হবে এবং মার্কিন পক্ষের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের সমন্বয় নিয়ে জটিলতার কারণে ওই বৈঠক বাতিল হয়েছে বলে সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর সফরের সময়সূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্কে পৌঁছে জাতিসংঘের কর্মসূচি শেষ করেই একই দিনে ইসরায়েলে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নেতানিয়াহু ও মামদানির বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে গাজা যুদ্ধ এবং আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে তুলে ধরছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছেন। অন্যদিকে মামদানি আইসিসির পরোয়ানা কার্যকরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ বিরোধের মধ্যেই জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর এবারের সফর আন্তর্জাতিক ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।