সাজেকে ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে বৃষ্টির মতো গুলি: প্রাণ হারালেন ইউপিডিএফের হেগেরা চাকমা

পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ভোরের আলো ফোটার আগেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। আঞ্চলিক রাজনীতির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসীত) এক সক্রিয় সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আজ শনিবার (৯ মে) ভোরে সাজেক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অত্যন্ত দুর্গম শুকনোছড়া এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম হেগেরা চাকমা (৫০)। তিনি সাজেক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রেতকাবা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শুকনোছড়া এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, হেগেরা চাকমা ইউপিডিএফের (প্রসীত বিকাশ খীসা গ্রুপ) রাজনীতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন এবং মাঠ পর্যায়ে দলটির কার্যক্রম পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতেন।

এলাকাবাসীর বরাতে জানা গেছে, আজ সকাল পৌনে ছয়টার দিকে সাংগঠনিক কাজে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন হেগেরা চাকমা। তবে আগে থেকেই সেখানে ওত পেতে ছিল ১০ থেকে ১২ জনের একটি প্রশিক্ষিত সশস্ত্র দল। তিনি সাধারণ পথ দিয়ে যাওয়ার সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। ঘটনাস্থলেই একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিথর হয়ে পড়েন হেগেরা চাকমা। হামলাকারীরা মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত পাহাড়ি পথ ধরে পালিয়ে যায়।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দয়াধন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুকনোছড়া এলাকায় একজনকে হত্যার খবর পাওয়ার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ঘটনাস্থলটি খাগড়াছড়ির দীঘিনালা এবং রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা। ওই অঞ্চলে ইউপিডিএফ-প্রসীত এবং ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক—উভয় পক্ষের শক্ত অবস্থান ও বিচরণ রয়েছে। ফলে এটি ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র অংগ্য মারমা দাবি করেছেন, নিহত হেগেরা চাকমা তাঁদের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তিনি এই হামলার জন্য তথাকথিত ‘নব্য মুখোশধারী’ গোষ্ঠীসমূহকে দায়ী করেছেন। তবে অন্য কোনো পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, “আমরা সকালে গুলির খবরটি পেয়েছি। যেহেতু এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম এবং পাহাড়ি অঞ্চল, তাই সেখানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগছে। পুলিশের একটি চৌকস দল ইতিমধ্যেই থানা থেকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর লাশের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” পাহাড়ের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত নতুন করে পুরো সাজেক ও বাঘাইছড়ি অঞ্চলে ভীতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।