‘নেতানিয়াহুর জায়গা আদালতের কাঠগড়ায়’; যুদ্ধাপরাধী তকমা দিয়ে মার্কিন সরকারকে কড়া বার্তা মামদানির

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির প্রভাবশালী মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নেতানিয়াহুকে একজন ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি তুলেছেন যে, এই ইসরায়েলি নেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখা মাত্রই যেন তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়। আজ বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করা এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় মার্কিন প্রশাসনের প্রতি এই জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

মামদানির এই বিস্ফোরক মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে চরম উত্তেজনা। তিনি তাঁর ভিডিওতে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার জন্য সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করেন। তিনি তথ্যপ্রমাণসহ উল্লেখ করেন যে, এই পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া গাজার হাসপাতালগুলোতে নির্বিচার হামলা চালানো, চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা এবং জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও মানবিক সহায়তা আটকে দেওয়ার মতো অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রধান নকশাকার হিসেবে তিনি নেতানিয়াহুর দিকে আঙুল তোলেন।

ভিডিও বার্তায় মেয়র মামদানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সংবেদনশীল একটি দিকও স্পর্শ করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, একটি নামমাত্র যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর আকাশপথ ও স্থলভাগের হামলা বিন্দুমাত্র থামেনি। তিনি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাধারণ মার্কিনিদের দেওয়া করের বা ‘বাজেট’-এর অর্থ দিয়েই মূলত এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোমার খরচ জোগানো হচ্ছে। মামদানির মতে, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং এটি মানবাধিকারের ওপর এক চরম কুঠারাঘাত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে মামদানি বলেন, “যার ন্যূনতম চোখ, হৃদয় কিংবা মানবিক বিবেক জাগ্রত আছে, সে নেতানিয়াহুর সৃষ্টি করা এই ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখে সহজেই বুঝতে পারবে যে, তাঁর জায়গা আজ কোনো রাষ্ট্রীয় মঞ্চে নয়, বরং আদালতের কাঠগড়ায়।” মেয়রের এই সাহসী অবস্থান এবং ভিডিও বার্তাটি বর্তমানে ইন্টারনেটে ‘ভাইরাস’-এর মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যা ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রটোকলকে এক বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।