নীতি সুদহার কমানোর বৈঠকের দিনই সাদিক আহমেদের প্রস্থান, স্থগিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি প্রণয়ন কমিটি (MPC) থেকে আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ সাদিক আহমেদ। বুধবার (৪ মার্চ) তাঁর এই সিদ্ধান্ত জানাজানি হওয়ার পর দেশের আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারণী মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক জ্যেষ্ঠ এই কর্মকর্তার পদত্যাগের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।


কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মুদ্রানীতি প্রণয়ন কমিটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা ছিল। তবে বৈঠকের পূর্বমুহূর্তে সাদিক আহমেদ পদত্যাগ করায় অন্য সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং সভাটি অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতে এই বৈঠকটি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।


মূলত দেশের বাজারে ঋণের সুদের হার কিছুটা কমিয়ে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে বলবৎ ১০ শতাংশ নীতি সুদহার (Policy Rate) ২৫ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের পরামর্শ অনুযায়ী এই নীতি সুদহার হ্রাসের বিষয়ে বুধবারের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। তবে সাদিক আহমেদের পদত্যাগ ও বৈঠক স্থগিত হওয়ার ফলে সেই প্রক্রিয়াটি আপাতত থমকে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সাদিক আহমেদের বিদায়ের পর মুদ্রানীতি প্রণয়ন কমিটিতে বর্তমানে ছয়জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, প্রধান অর্থনীতিবিদ আখতার হোসেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী নাহার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ সালাহউদ্দিন নাসের।


দেশের মুদ্রানীতি প্রণয়ন এবং বাজারে তারল্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই কমিটির ভূমিকা অপরিসীম। এমন একটি সময়ে অভিজ্ঞ এই অর্থনীতিবিদের প্রস্থান কমিটির কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।