মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এক চরম ও বিধ্বংসী মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে থাকা অত্যন্ত ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর (NATO) হাই-ভোল্টেজ শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি ওয়াশিংটনের এই সাম্প্রতিক ও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।
ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প ইরানের নীতিনির্ধারক ও উগ্রপন্থীদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমরা গত রাতে ইরানের অত্যন্ত বিপজ্জনক লোকদের ওপর খুব শক্তিশালীভাবে আক্রমণ চালিয়েছি।" ইরানি কর্তৃপক্ষের মানসিকতা ও যুদ্ধংদেহী আচরণের নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, "তারা আসলে মানসিকভাবে অসুস্থ, তাদের ভেতরে কোনো একটি গুরুতর সমস্যা রয়েছে।" ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের স্পর্শকাতর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাম্প্রতিক দফার বিমান হামলা সফলভাবে সম্পন্ন করে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকম’ (CENTCOM) এক বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযানের বিস্তারিত নিশ্চিত করেছে। সেন্টকম জানায়, অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ‘স্মার্ট’ যুদ্ধাস্ত্রের সাহায্যে ইরানের ভেতরের আশিটিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হামলায় ইরানের ড্রোন ঘাঁটি ও মিসাইল স্টোরেজ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আমেরিকার এই বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জবাবে বসে থাকেনি তেহরানও। মার্কিন বিমান হামলার সরাসরি প্রতিশোধ নিতে বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর আশিটির বেশি লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে একযোগে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স—ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। তেহরানের পক্ষ থেকে আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাল্টা হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। আইআরজিসি জানায়, মার্কিন আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে তাদের নৌ এবং বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই বিশাল পাল্টা সামরিক ‘অপারেশন’ পরিচালনা করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুঙ্কার এবং দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলারূপাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের মেঘে ঢাকা পড়েছে। আঙ্কারার এই সম্মেলন থেকে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন ইরানের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়। অন্যদিকে, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে ইরানও তাদের সামরিক সক্ষমতার জানান দিয়ে রেখেছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলো।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।