এরদোয়ানের নজিরবিহীন উপহার: বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে দিলেন তাজা গুলিসহ রিভলবার!

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো (NATO) শীর্ষ সম্মেলনে এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সম্মেলনের আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে তিনি যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে তাজা গুলিসহ একটি ব্যক্তিগত রিভলবার উপহার দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে সচরাচর এ ধরনের ‘ডেডলি’ বা মরণঘাতী উপহার দেওয়ার নজির নেই বললেই চলে, যার ফলে বিষয়টি নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আঙ্কারার এই শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য এরদোয়ান বিশেষ এই উপহারের ব্যবস্থা করেছিলেন। প্রতিটি রিভলবার বা আগ্নেয়াস্ত্রে সংশ্লিষ্ট নেতার নাম অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য নির্ধারিত সেই নাম খোদাই করা রিভলবারটি শেষ পর্যন্ত তাঁর সাথে লন্ডনে ডাউনিং স্ট্রিটে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কড়া আইনি প্রটোকলের কারণে এটি আপাতত তুরস্কে অবস্থানরত ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের কারণে এই বিপত্তি দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যথাযথ অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যে যেকোনো ধরনের তাজা আগ্নেয়াস্ত্র বা গোলাবারুদ আমদানি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। ফলে উপহারটি লন্ডনে পাঠানোর আগে সেটিকে যান্ত্রিকভাবে সম্পূর্ণ ‘ডিঅ্যাক্টিভেট’ বা নিষ্ক্রিয় করা হবে। এর ফলে রিভলবারটি কেবল একটি প্রদর্শনী সামগ্রী হিসেবে টিকে থাকবে এবং এটি দিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো তাজা গুলি ছোঁড়া সম্ভব হবে না। উল্লেখ্য, এই উপহার দেওয়ার সুবিধার্থে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তুরস্কের নিজস্ব রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন শিথিল করেছিলেন। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত এই বিতর্কিত উপহারের কোনো ছবি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

এই নাটকীয় উপহার বিনিময়ের আড়ালে দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। ন্যাটোর এই বিশেষ ‘সামিট’ বা সম্মেলনের ফাঁকে কিয়ার স্টারমার ও রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান একটি বড় ধরনের ইনটেলিজেন্স বা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেন। এর ফলে তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্মেলন শেষে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক মিশনে কিয়ার স্টারমার এক আবেগঘন বিবৃতিতে জানান, ইউক্রেন ও ইরানের চলমান অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ন্যাটো জোট এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ। স্টারমার বলেন, “এটি একটি সফল সম্মেলন ছিল। আমরা যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, তা পেরেছি; আর তা হলো জোটের অবিচল ঐক্য।” গত মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর কিয়ার স্টারমারের জন্য এটিই ছিল ক্যারিয়ারের শেষ বড় কোনো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সফর। একদিকে তাজা বুলেটের রোমাঞ্চ আর অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা চুক্তি—সব মিলিয়ে আঙ্কারার এই ন্যাটো সম্মেলনটি স্টারমারের বিদায়ী বেলায় এক ঐতিহাসিক স্মারক হয়ে রইল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।