আকাশজুড়ে যুদ্ধের শঙ্কা, নিচে চলছে পরীক্ষা; কেন্দ্র নিয়ে ইরানের ‘মাস্টারপ্ল্যান’

পারস্য উপসাগরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এখন এক ভয়াবহ ও চরম রূপ নিয়েছে। আকাশে চক্কর দিচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমান আর নিচ থেকে গর্জে উঠছে ক্ষেপণাস্ত্র। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর ও সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক অভাবনীয় ও সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দেশটির সামরিক ঘাঁটি বা স্পর্শকাতর অবকাঠামোর কাছাকাছি অবস্থিত সব শিক্ষা বিষয়ক পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে এবং তাঁদের মানসিক স্থিতি বজায় রাখতেই তেহরান এই ‘ইমারজেন্সি’ পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি আজ বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারকেরা জানিয়েছেন, মার্কিন বিমান বাহিনী যেসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ছক কষছে, তার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে ইরানের সেনাক্যাম্প ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এসব স্থাপনার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত স্কুল ও পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে যেকোনো সময় ‘স্মার্ট’ বোমার ভুল লক্ষ্যভেদ কিংবা যুদ্ধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে কেন্দ্রগুলোকে সামরিক বলয় থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত বিভিন্ন পাবলিক হল এবং ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তেহরানের এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি ভীতি দূর করতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার স্বার্থে শহরের বড় বড় অডিটোরিয়াম এবং স্থানীয় ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোর ‘নিরাপদ ছাদ’-কে বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত বোমাবর্ষণ বা বড় ধরনের সামরিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সুরক্ষিত থাকবে বলে আশা করছে দেশটির প্রশাসন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের এই প্রজ্ঞাপূর্ণ ও কৌশলী পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’-এর একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। বর্তমান ‘ক্যাবিনেট’ বা নীতিনির্ধারকদের এই সিদ্ধান্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে কড়া ‘ডেডলাইন’ দেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।