বিশ্বজুড়ে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তির জয়জয়কার। তবে এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে ও দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারে উন্নত বিশ্বের অনেক শক্তিশালী দেশকে পেছনে ফেলে চমক দেখিয়েছে সিঙ্গাপুর, চিলি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-এর এক প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা গেছে।
সাইবার নিউজ নামক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিশ্বের ৬৪টি দেশে সর্বাধিক জনপ্রিয় ১০০টি এআই-ভিত্তিক অ্যাপের ডাউনলোড পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করেছে। গুগল প্লে-স্টোর ও অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যার আনুপাতিক হার অনুযায়ী এআই অ্যাপ ব্যবহারের দৌড়ে এই তিনটি দেশ বর্তমানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। গবেষকরা মূলত মানুষের দৈনন্দিন কাজ, শিক্ষা এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এআই প্রযুক্তির ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতাকে এই অগ্রগতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাফল্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’ হিসেবে গ্রহণ করেছে। ২০১৭ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এআই-সংক্রান্ত ‘ন্যাশনাল এআই স্ট্র্যাটেজি’ বা জাতীয় কৌশলপত্র গ্রহণ করার সুফল এখন ভোগ করছে তারা। দুবাই ও আবুধাবির মতো শহরগুলো বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক হাবে পরিণত হয়েছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই ব্যবহারের হারে দুবাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নগরী সান ফ্রান্সিসকোকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি এআই শহরের তালিকায় এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই বাণিজ্য কেন্দ্রটি শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে।
সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে দেখা যায়, দেশটির সরকার ‘এআই সিঙ্গাপুর’ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশে অভূতপূর্ব বিনিয়োগ করেছে। উন্নত ৫জি (5G) ইন্টারনেট অবকাঠামো ব্যবহার করে তারা স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন এবং টেলিযোগাযোগ খাতে এআই-কে অত্যন্ত কার্যকরভাবে একীভূত করেছে। এই প্রযুক্তিবান্ধব পরিবেশের কারণেই দেশটিতে অসংখ্য নতুন ‘স্টার্টআপ’ গড়ে উঠছে, যা মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া ও ওপেনএআই-এর মতো বৈশ্বিক টেক জায়ান্টদের বড় অংকের বিনিয়োগ করতে আকৃষ্ট করছে।
তবে এই তালিকায় সবচেয়ে বড় বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। বিশ্বের অধিকাংশ বড় বড় এআই প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর ও উন্নত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও এআই গ্রহণের সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ২৮তম। দেশটিতে এআই ব্যবহারের হার মাত্র ৪১ শতাংশ। শীর্ষ ১০-এর তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে লাটভিয়া, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া, মালয়েশিয়া ও লেবানন।
অন্যদিকে, জনসংখ্যার বিশাল আধিক্য থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের এই তালিকায় নিচের দিকে রয়েছে ভারত, নাইজেরিয়া, পোল্যান্ড ও ভেনিজুয়েলার মতো দেশগুলো। কাউন্টারপয়েন্ট প্রকাশিত ‘গ্লোবাল এআই সিটিজ ইনডেক্স ২০২৫’ অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এখন দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও এআই সেবার মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা উন্নত করার এক প্রতিযোগিতা চলছে, যেখানে সিঙ্গাপুর, সিউল ও বেইজিং-এর মতো শহরগুলো নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রযুক্তির এই দ্রুত বিবর্তন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দেশগুলোর এই নতুন র্যাঙ্কিংয়ে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।