আমদানিতে নতুন গতি: মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশাল দুই ট্যাঙ্কার

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় স্বস্তির খবর বয়ে এনেছে চট্টগ্রাম বন্দর। মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বিশাল এক তেলের ট্যাঙ্কার বন্দরে এসে পৌঁছেছে। ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ (Shan Gang Fa Jian) নামের এই মালয়েশীয় জাহাজটি শুক্রবার গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেল অতিক্রম করে শনিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে (Outer Anchorage) এসে পৌঁছায়। জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ‘প্রাইড শিপিং লাইনস’ (Pride Shipping Lines) জানিয়েছে, ৩৪ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে আসা এই ট্যাঙ্কারটি শনিবারই বন্দরের জেটিতে ভেড়ানোর (Berth) কথা রয়েছে।

প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম এই বৈশ্বিক লজিস্টিকস প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, “মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টনের সামান্য বেশি ডিজেল নিয়ে ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ ইতিমধ্যে কুতুবদিয়া পৌঁছেছে। শনিবারের মধ্যেই এটি বন্দরে বার্থিং করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত শুক্রবার দুপুর ২টায় সিঙ্গাপুর থেকে আসা ‘ইয়ান জিং হে’ (Yan Jing He) নামের আরও একটি জাহাজ ২৭,৩০০ টন ডিজেল নিয়ে পদ্মা অয়েলের ‘ডলফিন জেটি-৬’-এ বার্থিং করেছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা এই দুটি বিশাল জাহাজের মাধ্যমে দেশে মোট ৬১ হাজার ৩০০ টন ডিজেল এসে পৌঁছাল।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন খাতের নিরবচ্ছিন্ন সচলতা বজায় রাখতে এই বিশাল পরিমাণ ডিজেল আমদানি অত্যন্ত জরুরি ছিল। কুতুবদিয়া চ্যানেলে গভীরতা বেশি থাকায় বড় জাহাজগুলো প্রথমে সেখানে অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে জোয়ার ও ড্রাফট (Draft) বুঝে মূল বন্দরে প্রবেশ করে। এই ধারাবাহিক আমদানি প্রক্রিয়া দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সাথে শুল্কায়ন ও খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তৎপর রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া