দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) যান্ত্রিক সক্ষমতা বাড়াতে সেখানে নির্মিত হচ্ছে একটি অত্যাধুনিক ও বিশাল লোকোমোটিভ কারখানা। এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে রেলের ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ যেমন সহজ হবে, তেমনি উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে কয়েক শ’ মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দেশের একমাত্র কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা। ব্রডগেজ ও মিটার গেজ- উভয় ধরনের লোকোমোটিভ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এই কারখানাটিই ছিল প্রধান ভরসা। তবে সময়ের পরিক্রমায় রেলের ইঞ্জিনের সংখ্যা বেড়ে এখন ৩০৬টিতে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বছরে অন্তত ৫১টি লোকোমোটিভের 'ওভারহোলিং' বা বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন হলেও, বিদ্যমান কারখানার সীমাবদ্ধতার কারণে মাত্র ২১টির কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে এবং রেল চলাচল আরও নির্বিঘ্ন করতে বর্তমান কারখানার পাশেই প্রায় ২৫ একর জমিতে দ্বিতীয় একটি ইউনিট নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
প্রকল্পের বিশদ বিবরণ অনুযায়ী, নতুন এই লোকোমোটিভ কারখানাটি স্থাপনে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। মেগা প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের জন্য স্থান নির্বাচন এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষার (Feasibility Study) কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। এই কারখানাটি পূর্ণমাত্রায় চালু হলে সেখানে প্রায় ৭৫০ জন দক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেল সেবায় গতিশীলতা আনতে ইঞ্জিনের সুস্থতা অপরিহার্য। বর্তমানে লোকোমোটিভের যে তীব্র সংকট রয়েছে, নতুন কারখানাটি সেই সংকট নিরসনে গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে ইঞ্জিনের 'আউটটার্ন' বা কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে এবং ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় কমে আসবে।
পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার প্রধান নির্বাহী শেখ হাসানুজ্জামান প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "নতুন কারখানাটি বাস্তবায়িত হলে দুটি ইউনিট সম্মিলিতভাবে বছরে গড়ে ৫০টি লোকোমোটিভের মেরামত সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। এতে রেল পরিবহনে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার হবে এবং যাত্রী সেবার মান আরও উন্নত হবে।"
নতুন এই আধুনিক কারখানায় লেটেস্ট টেকনোলজি ও উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে, যা লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল ও দ্রুততর করবে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে একটি স্মার্ট ও আধুনিক রেল নেটওয়ার্কের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া