বাংলাদেশের নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তিকে 'অসম ও অনৈতিক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এই চুক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। আজ রোববার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত মাসিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পিআরআইয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার। অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে অর্থনীতিবিদেরা তাদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন। মোহাম্মদ হাতেমের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং এর প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের চুক্তিকে 'অনৈতিক' আখ্যা দিয়ে মোহাম্মদ হাতেম প্রশ্ন তোলেন, "চুক্তিতে বলা আছে, যুক্তরাষ্ট্র কোথাও নিষেধাজ্ঞা দিলে, তা আমাদের মানতে হবে। এখন তারা আর ইসরায়েল মিলে মধ্যপ্রাচ্যে অত্যাচার চালাচ্ছে। আবার তারা যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে উঠিয়ে নিয়ে এসেছে, সেটাও কি আমাদের মানতে হবে?" তার মতে, এই ধরনের শর্তাবলী একেবারেই অনৈতিক এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য অবমাননাকর।
মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক বাতিল হওয়ায় এখন সবার ওপর সমান ১৫ শতাংশ শুল্ক। তাহলে এখানে আমাদের বাড়তি সুবিধা কোথায়?" তিনি এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, কেবলমাত্র দেশটি থেকে সুতা আমদানি করলে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়; কিন্তু এই সীমিত সুবিধার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত অন্যান্য বড় শর্ত কেন মানতে হবে? তাই তার দৃঢ় অভিমত, নতুন সরকারের অবিলম্বে এই চুক্তি পর্যালোচনা করা উচিত, যাতে দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
এদিকে, পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সুতা আমদানি করে পোশাক উৎপাদন করে সে দেশে রপ্তানি করলে যে শুল্ক-সুবিধা পাওয়া যাবে, তাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তার মতে, এটি একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে হলেও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য অনুকূল।
রপ্তানি খাতের নাজুক পরিস্থিতি
মোহাম্মদ হাতেম তার বক্তব্যে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো টানা সাত মাস রপ্তানি নেতিবাচক ছিল না। হয়তো দুই–তিন মাস এমনটা হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই নেতিবাচক ধারা উদ্বেগজনক।" ব্যবসায়ী মহলের ধারণা, আগামী জুন মাস পর্যন্ত রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে, এরপর যে রপ্তানি আবার ইতিবাচক হবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট পূর্বাভাস বা লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রপ্তানি খাতের এই দীর্ঘমেয়াদী দুর্বলতা কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।