৪৩ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন, স্থগিত হলো চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা

 টানা কয়েকদিনের প্রলয়ঙ্করী বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য আজকের (বুধবার) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।


মঙ্গলবার গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে গতকাল রাতেই আলাদা দুটি আদেশের মাধ্যমে প্রথমে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে পরবর্তীতে বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার পরীক্ষাই স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।


শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে থাকা জেলাগুলো ছাড়া দেশের অন্য সকল শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যথানিয়মে অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এবার দেশের সকল সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম নগরীতে ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, জুলাই মাসের এক দিনে এই পরিমাণ বৃষ্টিপাত গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই অস্বাভাবিক বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে।


প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। পাহাড়ধস ও দেয়াল ধসে চট্টগ্রাম মহানগরী, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বন্যার কারণে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া অভ্যন্তরীণ অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।


বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে আকাশপথ ও রেলযোগাযোগেও। দৃশ্যমানতা কম থাকায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করতে না পেরে ফিরে গেছে। অন্যদিকে, রেললাইনের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে।


সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে কক্সবাজার জেলায়। টানা বৃষ্টিতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৯৩টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শত শত গ্রাম বর্তমানে জলমগ্ন, যা ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দিয়েছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।