চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া (আংশিক) জনপদের মাটি ও মানুষের নেতা এবং সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী পরলোকগমন করেছেন। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। আজ ভোরে হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি ঘটে এবং তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে তাঁর নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-১৪ আসনসহ সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, দুই কন্যা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী নজরুল ইসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে মোট তিনবার জাতীয় সংসদের সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এলাকার অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নিবেদিতপ্রাণ নেতা সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর মন্ত্রিসভায় বা ‘ক্যাবিনেট’-এ অন্তর্ভুক্ত হন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। একজন সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অনন্য অবদান ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মরহুমের মরদেহ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তাঁর প্রয়াণে চন্দনাইশ-সাতকানিয়া এলাকার সাধারণ মানুষ ও তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা গভীরভাবে শোকাহত। চন্দনাইশের এই অভিভাবকের মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা অপূরণীয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।